খাওয়ার পর প্রায়ই কাশি, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয় শিশু। কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বেরিয়ে আসে গ্যাস্ট্রো–ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ। এই সমস্যায় অনেক শিশুরই খাওয়ার পর পাকস্থলীতে জমা থাকা অ্যাসিড খাদ্যনালি বেয়ে ওপরের দিকে উঠে আসে।

আমাদের খাদ্যনালি এবং পাকস্থলীর সংযোগস্থলে প্রাকৃতিকভাবেই একধরনের আংটার মতো অংশ থাকে—যার কাজ হলো খাবার গলাধঃকরণ করার পর নিচে নামিয়ে আনা, আর যা একবার পাকস্থলীতে ঢুকে গেছে, তা ওপরে উঠে আসাকে প্রতিরোধ করা।

কিন্তু কখনো কখনো ছোট শিশুদের পাকস্থলী আর খাদ্যনালির সংযোগস্থল কিছুটা ঢিলে হয়ে যাওয়ায় পাকস্থলীর ভেতরে থাকা অ্যাসিড অথবা খাবার ওপরে উঠে এসে বমি হয়ে যায়। পাকস্থলীর অম্লীয় পদার্থ খাদ্যনালির সংস্পর্শে এসে এর আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জন্মের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে কারও কারও এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত এই সমস্যা থাকে। যদি অন্য কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে অল্প বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি তেমন ক্ষতিকর নয় এবং এর জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা ছাড়া তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।

তবে মনে রাখতে হবে, অপরিণত শিশু এবং কম ওজনে জন্ম নেওয়া শিশু, সেরিব্রাল পালসি অথবা স্নায়ুর বিকাশজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বেশি দেখা যায়।

লক্ষণ কী

  • অতিরিক্ত কান্নাকাটি।

  • অতিরিক্ত মোচড়ামুচড়ি।

  • খাবার দেখলেই অনীহা ও কান্নাকাটি।

  • ওজন ঠিকমতো বাড়ে না।

  • রিফ্লাক্স বমির জটিলতা হিসেবে শ্বাসনালি আটকে যাওয়ার মতো হয়ে দম বন্ধ হওয়া, বুক থেকে দীর্ঘমেয়াদি শোঁ শোঁ শব্দ।

  • কানে প্রদাহ, স্বর পরিবর্তন হয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলা।

  • একটু বড় শিশুরা বুক জ্বলার কথাও বলে।

কখন বুঝবেন শিশুর ঘাম তার অসুস্থতার লক্ষণ

করণীয় জানুন

  • এই সমস্যা থাকলে সেসব শিশুকে একবারে বেশি না খাইয়ে কিছু সময় পর পর অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে।

  • খাওয়ানোর পরপরই শিশুকে না শুইয়ে অন্তত ৩০ মিনিট সোজা বা ঘাড়ের ওপর খাড়া করে ধরে রেখে ঢেকুর তুলতে হবে।

  • যেসব খাবার রিফ্লাক্স বাড়ে, যেমন তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া, চকলেট, অতিরিক্ত টমেটোযুক্ত খাবার থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে।

  • শোবার সময় মাথার দিকটা সামান্য উঁচু রাখতে হবে।

কখন ঝুঁকিপূর্ণ

  • শিশুর ওজন আশঙ্কাজনকভাবে কমতে থাকা।

  • ঘন ঘন ও প্রচুর পরিমাণে বমি।

  • বমির সঙ্গে সবুজ পিত্তরস বা রক্ত।

  • শ্বাসকষ্ট ও ঘন ঘন কাশি।

এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বয়স অনুযায়ী রোগের লক্ষণ দেখে সাধারণত চিকিৎসকেরা এই রোগ নির্ণয় করেন। তবে কখনো কখনো কিছু পরীক্ষার দরকার হতে পারে।

শিশুরা কি প্রথম জন্মদিনের আগেই ‘মিথ্যা’ বলতে পারে