হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় কৃষক, চা বাগানের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা। এ সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেনি।

সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় ৫৫ বিজিবির অধীন ১৬টি সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উঠান বৈঠক, মাইকিং এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

২৭ ও ২৮ জুন গভীর রাত ও ভোরে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এবং চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একাধিক পুশইনের অপচেষ্টা বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করে। অভিযোগ করা হয়, রাতের অন্ধকারে বিএসএফ সীমান্তের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ রেখে এসব চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয়দের তথ্য ও বিজিবির দ্রুত টহলের কারণে শূন্যরেখাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি একা নয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, কৃষক, চা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করছেন। এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যে কোনো ধরনের পুশইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

শেরপুরে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ : শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলা সীমান্তে বাংলাদেশে পুশইন বা অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টায় শেরপুর সীমান্তের মেইন পিলার (এমপি) ১০৯৭-এর পাশ দিয়ে দুই ব্যক্তি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবির টহল দল তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিজিবি নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।