প্যাকেটজাত খাবারের আকর্ষণীয় মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের আড়ালে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথনাটক পরিবেশন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নাটকের মাধ্যমে এসব খাবার নিয়ে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যসংসদ এ পথনাটক পরিবেশন করে। ‘শালুকডাঙার কথা’ শিরোনামের নাটকটিতে প্যাকেটজাত খাবারের ঝুঁকি ও এ বিষয়ে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

‘শোনেন শোনেন দেশবাসী, শোনেন দিয়া মন, শালুকডাঙা গায়ের কথা করিবো বর্ণন’- এই মৌলিক গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নাটকটি। একটি গ্রামের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় এর গল্প। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহ এবং রঙিন মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি নাটকে তুলে ধরা হয়।

নাটকে দেখানো হয়, প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি সম্পর্কে অনেক ভোক্তারই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে এসব খাবার নিয়মিত গ্রহণের সঙ্গে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও অনেকের অজানা থেকে যায়।

পথনাটকটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং’ (এফওপিএল)। আয়োজকদের মতে, প্যাকেটের সামনের অংশে সহজে দেখা যায় এমন পুষ্টি-তথ্য ও সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা দ্রুত কোনো খাবারের পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। এতে খাবার কেনার ক্ষেত্রে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

নাটকটির নির্দেশক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, “নাটকের মাধ্যমে প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা বরাবরই চেষ্টা করি নাটকের মাধ্যমে সত্যকে সবার সামনে তুলে ধরতে। ‘শালুকডাঙার কথা’ও আমাদের সেই প্রয়াসের অংশ। মানুষ যেন তারা কী করছে, কী কিনছে এবং কী খাচ্ছে- সবকিছু দেখে ও বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই আমরা চাই। খাবারের ক্ষতিকর উপাদানগুলোও যেন মোড়কের সামনেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।”

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।  তরুণদের নিজেদের পাশাপামি পরিবার ও সমাজের মানুষকে নিরাপদ খাদ্য, সঠিক পুষ্টি-তথ্য এবং ভোক্তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তরুণদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই একটি সুস্থ প্রজন্ম ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।”

‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পথনাটকটির সমাপ্তি হয়। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় এবং সহকারী নির্দেশক হৃদয় সরকার। মঞ্চ ও দ্রব্যসামগ্রী পরিকল্পনায় ছিলেন আকাশ রায়। আবহসংগীতের দায়িত্ব পালন করেন নিলয় বালা ও প্রীতম সাহা।

নাটকটিতে অভিনয় করেন আশফাকুল ইসলাম, শাহীন আলম জীবন, গৌরব ঘোষ, বিনয়ী রায়, সোহা ইসলাম, মাহিন মুনতাসির, মাহাদী হাসান, নাহিদ আলম, তাসকিন খাঁন, তাবিব ওয়াসীত খান ও মো. শাহানুর আলম শাফিন।