২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার উত্তেজনাকর ম্যাচকে ঘিরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ম্যাচ চলাকালে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা রোধে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে পার্সিয়ান-এর তথ্য অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য পুলিশকে ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিখ্যাত শ্যঁজেলিজে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যেখানে অতীতে বড় বড় ফুটবল ম্যাচের পর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। জনসমাগম এড়াতে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে ম্যাচ শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে বিশেষ পুলিশি আদেশ কার্যকর হবে এবং সব ধরনের আতশবাজি ও পাইরোটেকনিক সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূলত ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ফরাসি প্রশাসন, যেখানে ফ্রান্সে বিপুল সংখ্যক মরক্কান বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাসের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ​এদিকে, মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে মরক্কোর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রয়েছে। বোস্টনে হতে যাওয়া এই ম্যাচের আগে মরক্কোর দলগত পারফরম্যান্স ও কৌশলের ওপর ভরসা রাখছে আটলাস লায়ন্স। মরক্কোর এই এগিয়ে থাকার পেছনে অন্যতম কারণ তাদের কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে খেলার ধরনে পরিবর্তন। রক্ষণাত্মক খেলার খোলস ছেড়ে মরক্কো এখন বলের দখল রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে, যার প্রমাণ হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার কোনো দলের সর্বোচ্চ ১০টি গোল করার রেকর্ড গড়েছে তারা। এছাড়া, দলের ভারসাম্য এবং ইসমাইল সাইবারি ও ব্রাহিম দিয়াজের মতো ইউরোপে খেলা ফুটবলারদের উপস্থিতি তাদের শক্তি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ​মরক্কোর দলের মূল ভরসার জায়গাগুলোর একটি হলো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর অসাধারণ দক্ষতা, যিনি টাইব্রেকারে পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে দারুণ পারদর্শী। পাশাপাশি অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির অভিজ্ঞতাও দলের জন্য বড় সম্পদ। কিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও ব্রাডলি বারকোলার মতো ফরাসি তারকাদের সাথে একই ক্লাবে খেলার সুবাদে তাদের খেলার ধরন সম্পর্কে হাকিমির বিশেষ ধারণা রয়েছে, যা ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, বিশ্বকাপের শুরু থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের মাধ্যমে তাদের নির্ভীক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে দলটি। সব মিলিয়ে, কৌশলগত পরিবর্তন, বর্তমান ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে মরক্কো এবার ফ্রান্সকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে।