রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার পদে অনার্স ডিগ্রি না থাকা একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সদ্য নিয়োগ পাওয়া ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তার নিয়োগের পর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ এইচ এম আসলাম হোসেন ২০০৬ সালে রাবিতে সরাসরি উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে, ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির আবেদনের শর্তে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও তার নিয়োগের সময় এ শর্ত শিথিল করা হয়েছিল এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।

তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “কোনো অনার্স ডিগ্রি নেই, মাদ্রাসায় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকুরীর অভিজ্ঞতা আছে যদিও মাদ্রাসায় চাকুরীর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। উল্লেখ্য, একইসাথে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের চাকুরীর আবেদনের শর্ত শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনার্স ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও উনার নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি শিথিল ছিল।”

তিনি আরো উল্লেখ করেন, “বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারলাম আজ রাবিতে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। শুনলাম এই বিষয়ে জোর রাজনৈতিক সুপারিশ আছে। এর আগে কোনো ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নিয়োগ দেবার ঘটনা কখনও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।”

একইসঙ্গে, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদ্য অব্যাহতি পাওয়া রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনি বলেন, “আমি থাকাকালীন ওনার যে ফাইল দেখে আসছি তাতে উনি কোনোভাবেই যোগ্য বলে মনে করি না। আমি প্রকাশ্যেই বলতে পারবো, এমন একজন মানুষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক পিছিয়ে যাবে। ওনার প্রোফাইল অনুযায়ী উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাড়াবে বলে মনে করি।”

তিনি বলেন, “আমার ক্লাস-পরীক্ষা থাকার কারণে এ জায়গাটা আমার কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিলো। আমি মনে-প্রাণে চেয়েছি একজন যোগ্য লোক এ জায়গায় আসুক, কিন্তু এরকম একজন অথর্ব মানুষের কাছে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যাবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে ২০ বছরের বেশি কর্মরতদের মধ্য থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। বিধায় প্রয়োজনে আগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে বিবেচনা করা যেত অথবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরাসরি উন্মুক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া যেত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে কথা গুলো বলা হচ্ছে তা মিথ্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী আমাকে এখানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।” তবে, তিনি স্নাতক না করলেও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা দেখেই দেয়া হয়েছে ব্যতিক্রম হয়নি। যখন পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হবে, তখন সেটা সেই যোগ্যতা অনুযায়ী দেয়া হবে। তবে এ নিয়োগে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।”

প্রসঙ্গত, এ এইচ এম আসলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

চাকরিজীবনের শুরুতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ২০০৩ সালে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) পদে সরাসরি যোগদান করেন। রাবিতে যোগদানের পর থেকে তিনি একাডেমিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।