কোনো শত্রু যদি অনবরত ঝগড়া ও বিবাদের উসকানি দেয় এবং বাড়ির সামনে এসে উচ্চকণ্ঠে গালিগালাজ করে মারমুখী পরিবেশ তৈরি করে, এই অবস্থায় শান্ত থাকা ও পরিস্থিতি মোকাবেলা করার উপায় কী? বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং সংযমের পরিচয় দেওয়া। দীর্ঘ বক্তৃতা বা উপদেশ দেওয়া সহজ, কিন্তু সঠিক সময়ে ধৈর্যের বাস্তব প্রয়োগ অত্যন্ত কঠিন। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কমবেশি প্রত্যেকের জীবনেই আসে। যখন কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খোঁচা দিয়ে বা উসকানি দিয়ে অপরের ক্রোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করে, তখন আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
এ রকম পরিস্থিতিতে সুচিন্তিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, এই মুহূর্তে কী করা উচিত। যদি নীরব থাকাটাই শ্রেয় হয়, তবে অপরপক্ষ যত উসকানিই দিক না কেন, নিজের অবস্থানে অনড় থেকে চুপ থাকতে হবে। আর যদি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতেও হয়, তবে তা যেন কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে এবং কল্যাণের উদ্দেশ্যে হয়, সীমার বাইরে যেন না যায়। এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া মুখে যত সহজ, বাস্তবে পালন করা ততটাই কঠিন। বাহ্যিক ধর্মীয় লেবাস ধারণ করা কিংবা নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগি করা যতখানি সহজ, প্রতিকূল মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করা ততটা সহজ নয়। অনেক সময় দেখা যায়, নিয়মিত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ব্যক্তিও পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন। এই কারণেই ইসলামে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সংযমকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
শায়খ আহমাদুল্লাহ / ভিন্ন চোখে ফুটবল বিশ্বকাপ
কেউ যখন গায়ে পড়ে বিবাদ করতে আসে, তখন নিজেকে শান্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ প্রসঙ্গে আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত একটি অতীব অনুপ্রেরণামূলক হাদিস স্মরণ করা যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের মধ্যভাগে একটি প্রাসাদের দায়িত্ব নিচ্ছি, যে ন্যায়ের ওপর থাকা সত্ত্বেও বিবাদ পরিহার করে।’
জান্নাতের একটি প্রাসাদের মালিক হওয়া দুনিয়ার কোনো দামি ফ্ল্যাট বা অট্টালিকার মালিক হওয়ার মতো নয়। পৃথিবীতে মানুষ যত অর্থবিত্তের মালিকই হোক না কেন, তা কেবল ৫০ থেকে ৮০ বছরের ক্ষণস্থায়ী জীবনের জন্য। অথচ জান্নাতের সেই অট্টালিকা হবে অনন্তকালের জন্য, যার কোনো শেষ নেই।
কখনও যদি দেখেন, অন্যায়ভাবে আপনার ওপর জুলুম করা হচ্ছে এবং পাল্টা যুক্তি দিলে বিবাদ আরও বাড়বে, তখন জান্নাতের সেই চিরস্থায়ী প্রাসাদের আশায় নিজের ক্রোধ সংবরণ করুন। শয়তান আপনাকে উসকে দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার নানাবিধ যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করবে, শয়তানের ফাঁদে পা না দিয়ে মূর্খদের এড়িয়ে চলুন এবং 'সালাম' জানিয়ে প্রস্থান করুন।
আরও পড়ুন
শায়খ আহমাদুল্লাহ / প্রযুক্তির কাছে হেরে যাচ্ছে আমাদের নামাজ, উত্তরণের উপায় কী?
এই আত্মনিয়ন্ত্রণ কেবল বাস্তব জীবনেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিতর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারো কোনো পোস্টের বক্তব্য নিজের মতের সঙ্গে না মিললে কমেন্টবক্সে কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত না হয়ে কুশলী নীরবতা বজায় রাখা বা মুচকি হেসে এড়িয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিডিও থেকে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
হামের টিকা নিয়ে কী বলেছিলেন? যে ব্যাখ্যা দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ওএফএফ








