রাজবাড়ী নদী বেষ্টিত কৃষি প্রধান জেলা হলেও কাঁচা সবজির ঊর্ধ্বমুখী দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিম্নমধ্যবিত্ত ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। ৬০ টাকার ওপরে বেশির ভাগ সবজি।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা শহরের বড় বাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
রাজবাড়ীর বাজারে কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ২০০, উস্তে ৯০, লম্বা বেগুন ৭০, ঢেঁড়স ৭০, পটল ৭০, কাঁকরোল ৭০, কচুর মুখি ৬০, শসা ৬৫, ধুন্দুল ৫০, কাচ কলা প্রতিহালি ২০ থেকে ২৫, মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ ও আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কাঁচা সবজির পাশাপাশি রাজবাড়ীর খুচরা বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ভালো পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ ও ছালপচা পেঁয়াজ ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
আমিনউদ্দিন নামের এক রিকশা চালক বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়ে চলে পুরো সংসার। মাছ, মাংস কিনতে পারি না। আর এখন সবজি কিনতেও হিমশিম খাচ্ছি। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমরা যাব কোথায়। বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই, হুটহাট সব কিছুর দাম বাড়ে। ৫০/৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই।

আরেক ক্রেতা শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আয় বুঝে নাকি ব্যয়, সে হিসেবে এখন ডাল-ভাত খাওয়াই কষ্ট। সব কিছুর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আর যে জিনিসের দাম একবার বাড়ে, সে জিনিসের দাম কমে না। বৃষ্টির অজুহাতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০/৩০ বা তারচেয়েও বেশি দাম বেড়েছে। সরকারের উচিত কাঁচা সবজি সহ সব কিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনা।’
দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘এখন বাজারে মনিটরিং নাই। সিন্ডিকেট করে সব কিছুর দাম বাড়ানো হয়। সরকারের আমলা, নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় আমরা উন্নত বিশ্বের কোনো দেশে বসবাস করি। কিন্তু বাস্তবে খাবারও পাই না। সবজির বাজারে গেলেই টাকা শেষ, মাছ-মাংস তো দূরের কথা। বাজারের জন্য বাসা থেকে বের হই এক হিসাব করে, আর বাজারে গিয়ে হয়ে যায় ভিন্ন। প্রয়োজনীয় অনেক কিছু না কিনেই ফিরে যেতে হয়। সরকার যেন এগুলো দেখেও দেখে না।’
সবজি ব্যবসায়ী মো. রাজু বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সবজির আমদানি কম, যার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। তবে আড়ত থেকে আমরা যেভাবে কিনি সে হিসেবেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। আমদানি বাড়লে দাম কমে আসবে।
রুবেলুর রহমান/কেজে/এএসএম








