ভারী বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকার অনেক সড়ক পরিণত হয় অস্থায়ী খালে। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরসমান পানি। যানবাহন বিকল হয়, থমকে যায় নগরজীবন, নষ্ট হয় কর্মঘণ্টা। প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই চিত্র।
গত কয়েক দশকে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয়েছে অসংখ্য পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন হয়েছে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প। কখনো খাল উদ্ধার, কখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কখনো নতুন পাম্প স্থাপন প্রতিবারই নাগরিকদের দেখানো হয়েছে আশার আলো। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে ও পরে নগরবাসী শুনেছে উন্নত, বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বৃষ্টি নামলেই সেই প্রতিশ্রুতির শহর পরিণত হয় জলাবদ্ধতার নগরীতে।
হারিয়ে গেছে ঢাকার পানির গতিপথ একসময় ঢাকার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা খাল, বিল ও জলাভূমি প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের কাজ করত। নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সেই জলাধারগুলো একে একে হারিয়ে গেছে। জলাভূমি ভরাট হয়েছে আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণে, সংকুচিত হয়েছে খাল, অনেক খাল বিলীন হয়েছে দখল ও ভরাটের কারণে। ফলে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি ধারণের স্বাভাবিক সক্ষমতা হারিয়েছে শহর। একই সময়ে কংক্রিটের বিস্তার বাড়ায় মাটিতে পানি শোষণের সুযোগও কমে গেছে।
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, গত কয়েক দশকে রাজধানীর অধিকাংশ জলাভূমি ভরাট হয়েছে। এক সময় নগর এলাকার উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে থাকা জলাভূমি এখন নগণ্য পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সময়ে কংক্রিটে আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ হারিয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও পানি আটকে পড়ছে নগরীর ভেতরেই।
রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা বলছে, গত আট দশকের বেশি সময়ে ঢাকার প্রায় ১২০ কিলোমিটার খাল হারিয়ে গেছে। বহু খাল সংকুচিত হয়েছে, অনেক খাল পুরোপুরি বিলীন হয়েছে। ফলে শহরের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে।
রাজধানীর সূত্রাপুরের বাসিন্দা ইউসুফ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন। শৈশব থেকে তিনি পুরান ঢাকার নানা পরিবর্তনের সাক্ষী। বিশেষ করে ধোলাই খালের বর্তমান অবস্থা তাকে গভীরভাবে হতাশ করে। তিনি বলেন, “ছোটবেলায় দেখেছি ধোলাই খাল ছিল পুরান ঢাকার প্রাণ। বুড়িগঙ্গা নদী থেকে শুরু হয়ে খালটি বাবুবাজার, নবাবপুর, নারিন্দা ও সূত্রাপুর এলাকা অতিক্রম করে আবার বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিলিত হতো। তখন খালের পানি প্রবাহমান ছিল, নৌকা চলত, আশপাশের মানুষ নানা কাজে খাল ব্যবহার করতেন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত খাল দিয়ে বের হয়ে যেত। ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা খুব একটা দেখা যেত না।”
ইউসুফ হাওলাদার বলেন,“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল, ভরাট ও অব্যবস্থাপনায় খালটির অস্তিত্বই প্রায় হারিয়ে গেছে। কোথাও খালের ওপর স্থাপনা গড়ে উঠেছে, কোথাও ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না যে এখানে একসময় একটি খাল ছিল। খালটি তার স্বাভাবিক রূপে থাকলে আজ পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতার চিত্র এতটা ভয়াবহ হতো না।”
তিনি বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়, মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। অথচ প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের এই পথগুলো যদি সংরক্ষণ করা হতো, তাহলে নগরবাসীকে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। আমরা শুধু উন্নয়নের কথা বলি, কিন্তু প্রকৃতির নিজস্ব ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে যে ক্ষতি করেছি, তার খেসারত এখন সবাইকে দিতে হচ্ছে। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক খালগুলোর অস্তিত্ব চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এই জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পেতে হলে।”
বাড়ছে জলাবদ্ধতা বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা জলাবদ্ধতার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। রাজধানীর নিউমার্কেট, জিগাতলা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুরসহ বহু এলাকায় ড্রেনেজ লাইন অনেক সময় অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কোথাও আবার ড্রেন ও খালের মধ্যে সংযোগ দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে বর্জ্য ও প্লাস্টিকের কারণে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ড্রেন থাকলেও পানি নামার সুযোগ তৈরি হয় না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে ১৪১টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত রয়েছে। এসব এলাকায় ড্রেন সংস্কার, খাল পুনঃখনন, পাম্পিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নগরবাসীর অভিজ্ঞতা বলছে, পরিকল্পনার চেয়ে বাস্তবতার চিত্র এখনো অনেক ভিন্ন। কারণ বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বহু এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগ ফিরে আসে।
রাজধানীর জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজারীবাগ যাওয়ার সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাসিন্দা অভি সিকদার বলেন, “সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কেউ ভাবে না। সবাই নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত।”
ব্যবসায়ী খোকন তালুকদার বলেন, “বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। একবার আমার দোকানে পানি ঢুকে চাল, ডাল, খাতা-সহ বিভিন্ন পণ্য ভিজে নষ্ট হয়েছে। বছরের পর বছর একই সমস্যার মধ্যে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।”
জলাবদ্ধতা এখন মৃত্যুর ঝুঁকি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী মহিউদ্দিন খান বলেন, “সকালে অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তার কোথায় গর্ত আর কোথায় ম্যানহোল আছে, তা বোঝার উপায় থাকে না। পানি জমে থাকায় প্রতিটি পদক্ষেপে আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। কয়েক দিন আগে পাশের এলাকায় পানিতে নেমে একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা শুনেছি। এখন বৃষ্টির দিনে বের হলেই কাজ করে।”
পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় আরাফাত রহমান বলেন, “রাস্তার ওপর হাঁটুসমান পানি ছিল। পানির নিচে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি। হঠাৎ একজন পথচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি দেখার পর থেকে বৃষ্টির সময় জমে থাকা পানি দেখলেই ভয় লাগে।”
আছে প্রকল্প, তবুও জলাবদ্ধতা জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক দশকে শত শত কোটি টাকার নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ কমেনি। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ধানমন্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ধানমন্ডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জনগণ যে পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখতে চায়, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।”
সংশ্লিষ্টরা যা বললেন ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ ও এর সমাধান জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণগুলোকে যথাযথভাবে চিহ্নিত ও সমাধান না করায় বছরের পর বছর ধরে একই সংকট বহাল রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ধ্বংস এবং নগরের উন্মুক্ত জলাধার ও খোলা জায়গা কমে যাওয়াই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।”
তিনি বলেন, “একসময় ঢাকার বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন খাল, বিল ও জলপথ দিয়ে নদীতে গিয়ে মিলিত হতো। এটাই ছিল শহরের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কিন্তু নগরায়ণের ফলে সেই প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে কৃত্রিম ড্রেন ও বক্স কালভার্ট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এসব কৃত্রিম অবকাঠামো নির্মাণের সময় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের ধারণক্ষমতাকে পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।”
ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, “শহর শুধু রাস্তা ও ভবনের সমষ্টি নয়; একটি সুস্থ নগরের জন্য খোলা জায়গা, মাঠ, পুকুর ও জলাধারও প্রয়োজন। এসব জায়গা একদিকে যেমন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, অন্যদিকে বৃষ্টির পানি শোষণ করে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঢাকায় ক্রমবর্ধমান কংক্রিটায়নের ফলে মাটিতে পানি প্রবেশের সুযোগ কমে গেছে। ফলে অধিকাংশ বৃষ্টির পানি সরাসরি প্রবাহিত হয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।”
জলাবদ্ধতার কারণে পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এটি মূলত নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রতিফলন। অনেক ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া, খোলা বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।”
সমাধানের বিষয়ে ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, “সবার আগে ঢাকার জন্য একটি সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে হবে। এই পরিকল্পনায় খাল, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, ভূমির উচ্চতা-নিম্নতা, পানি প্রবাহের দিক এবং ড্রেনের ধারণক্ষমতার বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোথা থেকে পানি প্রবাহিত হবে, কোন পথে যাবে এবং কীভাবে খাল ও বৃহৎ ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে—সেসব বিষয়কে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে জলাধার, পুকুর, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং পানি ধারণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় নিয়মিত পানি জমে, সেখানে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে পাম্পিং ব্যবস্থা, পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পাঠানোর প্রযুক্তি এবং পানি শোষণক্ষম অবকাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে।”
জলাবদ্ধতার পেছনে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ও নিম্নাঞ্চল ভরাট, ড্রেন-খালে বর্জ্য ফেলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “নগরায়ণের ফলে বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার সুযোগ কমে গেছে, অন্যদিকে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথও সংকুচিত হয়েছে। রাজধানীর অনেক খাল ও নিম্নাঞ্চল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে পৌঁছাতে পারছে না। একই সঙ্গে ড্রেন ও খালে বর্জ্য জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, “২০২০ সালে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের কাছে এলেও প্রয়োজনীয় জনবল, সাংগঠনিক কাঠামো ও বরাদ্দ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। ফলে কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জলাশয় সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এককভাবে সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করলে সেটি পুরো সত্য হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
জলাবদ্ধতা নিয়ে সম্প্রতি ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আরো দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা থেকে পোর্টেবল পাম্প এবং বিদ্যমান পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণ করা হবে। ডিএসসিসির জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ চলছে। নগরীতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত আশপাশের নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।”








