রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার গৌরিহার গ্রামে স্কুল ও কলেজের মাঠ দখল করে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই সপ্তাহ ধরে মাঠে মাটি ফেলা হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। মাঠ ভরাটের কারণে শিশুদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে গ্রামের লোকজন ওই মাঠে গৌরিহার প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করেন। তখন গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী, তার চাচাতো ভাই রায়হান ইসলামসহ অনেকে ৩৩ শতাংশ জমি সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি করে দেন।
পরে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টি চালু থাকলেও নানা সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়। একই বছর ওই স্থানে আরও ৩৩ শতাংশ জমি যুক্ত করে মোট ৬৬ শতাংশ জায়গায় গৌরিহার মহিলা টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। জমিদাতা ছিলেন ইদ্রিস আলী এবং কলেজটির অধ্যক্ষও হন তিনি। পরে কলেজটিও বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তাদের দাবি, সরকারের নামে লিখে দেওয়া ওই জমি প্রায় ২৩ বছর ধরে গ্রামের মানুষ মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। প্রতিদিন বিকেলে ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক, কিশোর ও শিশু সেখানে খেলাধুলা করত।
সরেজমিনে দেখা যায়, আবু তালেব নামের এক ব্যক্তি একটি পুকুর খনন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই পুকুরের মাটি এনে স্কুলের মাঠ ভরাট করা হচ্ছে। গ্রামবাসীর দাবি, ইদ্রিস আলী ও রায়হান প্রকাশ্যে মাঠটি ভরাট করে দখলে নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইদ্রিস আলী বলেন, `প্রাথমিক স্কুল করার সময় ৩৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিই। কিন্তু নানা কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি।' মাঠটি বর্তমানে সরকারি—এটি স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, `জমিটুক যখন প্রাথমিক স্কুলের নামে রেজিস্ট্রি করে দিই, তখন শর্ত সাপেক্ষে ছিল। সেখানে লেখা ছিল স্কুলটি কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে জমিদাতা জমিটি ফেরত পাবেন। তাই আমরা দখলে নিচ্ছি।'
সরকারের কাছে জমি ফেরত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ইদ্রিস আলী বলেন, `আমরা কোন আবেদন করিনি। তবে শর্তে আছে আমরা পাব।' এ সময় তিনি এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করতে প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।
দুর্গাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, `বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। তারা যদি জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেয়, তাহলে জমিটি সরকারি। এ বিষয়ে জমিটির দলিল দেখা ছাড়া আমি কিছু বলতে পারব না। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।'
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, `এ সংক্রান্ত মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তাৎক্ষণিক এসিল্যান্ডকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।'








