রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশনগুলোয় হুড়োহুড়ি শুরু করেছেন মোটরসাইকেলের চালকেরা। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোয় ফের বাইকের সারি দেখা যাচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুরে এই অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন।
সভায় রাজশাহী পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিদিন তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেভাবেই তেল বরাদ্দ হচ্ছে। কিন্তু গতকাল রাত থেকে চাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। তেলসংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা সভায় জানিয়েছে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনাবিষয়ক এই সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তেল কেনা কিংবা মজুত না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তাই গুজবে কান দিয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা বা মজুত করার প্রয়োজন নেই। সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য জেনে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুত করলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে করণীয় বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সবুর আলী। সভায় রাজশাহী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন অন্তর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








