একটি হত্যা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার পলাতক আসামি রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেককে গ্রেফতারে অভিযানে গিয়েও মবের ভয়ে পিছু হটেছে পুলিশ। নগরীর বোয়ালিয়া থানার নিউমার্কেট এলাকার একটি বহুতল ভবন দুই ঘণ্টা ঘিরে রেখেও তাকে গ্রেফতার না করেই খালি হাতে ফিরতে হয় পুলিশকে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে রাখেন। কিন্তু ওই নেতাকে গ্রেফতার করতে ভবনটির ওপরে উঠতে সাহস করেনি পুলিশ। অভিযানিক দলে আরএমপির ক্রাইসিস রেসপন্স টিমও (সিআরটি) অংশ নেয়।

জানা গেছে, পুলিশ ভবনটি ঘিরে ফেললে তারেক নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ শুরু করেন। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ভবনটির সামনে জড়ো হয়ে তাকে মুক্ত করতে আহ্বান জানান। ‘দেশে কী আইন নাই, দেশে কী বিচার নাই, আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, পুলিশ ডাকলে নিজেই হাজির হতাম, আমাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে, আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’-ইত্যাদি বলে তারেক কান্নাকাটি শুরু করেন ফেসবুক লাইভে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারেকের ফেসবুক লাইভ শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে শতাধিক মোটরসাইকেলে তার অনুসারীরা জড়ো হন ভবনের সামনে। মব পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ রাত দেড়টার দিকে ওই নেতাকে গ্রেফতার না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ ভবনের সামনে থেকে সরে গেলে মাথায় হেলমেট পরে ও গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে সহযোগীদের নিয়ে উধাও হয়ে যান ওই নেতা। এ সময়ে তারেকের অনুসারীরা সাংবাদিকদের ভবনের কাছে যেতে দেয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ২১ জুন নগরীর শাহমখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদে গুলিবিদ্ধ হন ফয়সাল হোসেন বাঁধন নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী। বাঁধন তারেকের মোটরসাইকেলচালক হিসাবে সমধিক পরিচিত। ভাড়া নিয়ে দুবছর ধরে বাসাটির পঞ্চমতলায় বসবাস করছিলেন তারেক। ভবনের ছাদটি ছিল তারেকের ডেরা হিসাবে পরিচিত।

জানা যায়, গুলিবিদ্ধ বাঁধনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশাপাশি তারেকের বাসার ছাদ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, গুলিভর্তি ম্যাগজিন, হাতবোমা ও কিছু বিস্ফোরক জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহমখদুম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ হিল কাফি ঘটনার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার সংশ্লিষ্টতা পান। তারেককে গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশ। শনিবার রাতের অভিযান সম্পর্কে আরএমপির শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, তারেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। গুলিবিদ্ধ বাঁধন এখনো চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে আরএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার (ডিসি) গাজীউর রহমান জানান, রাতে মীর তারেককে নয়, অন্য একজন আসামিকে ধরতে অভিযান হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। ওই আসামির নাম প্রকাশ করেননি মুখপাত্র।