বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় স্কুলের পাশের দোকান থেকে কেনা চিপস খেয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী ও এক অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার বড় দুর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো- প্রাপ্তি অধিকারী (১০), তুফান শেখ (১৩), রাজদীপ (১০), আখিরা (১১), লামিয়া (১১), জান্নাতুল (১০), আরহী মন্ডল (৫), রাহুল মন্ডল (৮), সৃষ্টি বিশ্বাস (১০), ফাতেমা আক্তার (৮), আম্বিকা (৬) ও প্রভাতী (১০)। এছাড়া দীপিকা হালদার (২৮) নামের এক অভিভাবকও অসুস্থ হয়ে পড়েন। জান্নাতুল নামের এক শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, স্কুলের পাশের একটি দোকান থেকে চিপস কিনে খাওয়ার পর সবার পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। চিপসগুলো দেখতে ডিটারজেন্ট পাউডারের প্যাকেটের মতো মোড়কে ছিল। খবর পেয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌসি বিদ্যালয়ে যান এবং সংশ্লিষ্ট দোকানে অভিযান চালান। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ চিপস ও ডিটারজেন্টের মোড়কসদৃশ প্যাকেটে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।রামপাল তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন মৈত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক সাকিব রেজোয়ান জানান, "খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ১৩ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। বাকিদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।"ইউএনও তামান্না ফেরদৌসি বলেন, "খবর পাওয়ামাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। দোকানটিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"/