রংপুরের সমন্বিত দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে সহস্রাধিক দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।দুদক সূত্রমতে, রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় দুদক সমন্বিত কার্যালয়ে রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারী- এই তিন জেলার দুর্নীতির অভিযোগের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন উপপরিচালক। এ ছাড়া নগরীর মুলাটোল এলাকায় রয়েছে দুদকের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়, সেখানেও শত শত অভিযোগ পড়ে আছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। ভুক্তভোগীরা সরাসরি গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন, আবার অনেক অভিযোগ আসে রেজিস্ট্রারি ডাকযোগে।দুদকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে আসা অভিযোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ স্মারক নম্বর দিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তদন্তের নির্দেশ এলে তদন্ত করা হয়। কিন্তু অনেক অভিযোগ প্রাথমিক পর্যায়েই সরিয়ে রাখা হয়। এতে দুদক কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত বলে অভিযোগ।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অন্তত অর্ধশতাধিক অভিযোগ পড়ে আছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দুদক কয়েক দফা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান চালালেও কোনো দৃশ্যমান ফলাফল আসেনি। স্থানীয়দের মতে, এটি এখন ‘লোক দেখানো তদন্তে’ পরিণত হয়েছে।এ ছাড়া শিক্ষা বিভাগ, রংপুর সিটি করপোরেশন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, গণপূর্ত, সমাজসেবা বিভাগসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে দুদক দাবি করছে।দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ কয়েকজন কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ায় প্রধান কার্যালয় এখন কর্মকর্তাশূন্য। চেয়ারম্যান ছাড়াও চার মহাপরিচালকের পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি একজন মহাপরিচালক যোগদান করলেও পুরো শীর্ষ পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ হবে না বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।দুদকের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হলেও তারা কবে সুপারিশ করবেন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া কতদিন সময় নেবে, তা নিশ্চিত নয়।রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক সাওন মিয়া শুক্রবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দুদকের চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালকের পদ শূন্য থাকায় সারা দেশেই কার্যক্রম স্থবির। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’দুদকের সহযোগী সংগঠন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহাম্মেদ বলেন, ‘শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি আইন পরিবর্তন করতে হবে। এখনও জেলা কার্যালয় প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়া জরুরি অভিযানও চালাতে পারে না। দুদককে কার্যকরী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দাবি জানাচ্ছি।’
রাজনীতি
রংপুরে শূন্যপদে স্থবির দুদক, সহস্রাধিক অভিযোগের স্তূপ

শেয়ার করুন







