তিনি মাঠে নামলেই গোল, রেকর্ড, ইতিহাস-সব একাকার হয়ে যায়। একের পর এক এভারেস্টছোঁয়া কীর্তিতে এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি যেন আর্জেন্টিনার সমার্থক হয়ে গেছেন। দলের বাকি সবাই কার্যত পার্শ্বচরিত্র। গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাঁচ গোলের সবকটিই ছিল মেসির। রোববার সকালে ডালাসে জর্ডানের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে শুরুর একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনে অন্যদের নায়ক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সুযোগটা লুফে নিয়ে প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জিওভান্নি লো সেলসো ও লাওতারো মার্তিনেজ। বেঞ্চে বসে দুই সতীর্থের গোল উপভোগ করা মেসি ৬০ মিনিটে গ্যালারি কাঁপানো তুমুল করতালির মধ্যে বদলি হিসাবে মাঠে নামতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ৮০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে আরেকটি বিশ্বরেকর্ড গড়া গোলে শেষ দৃশ্যে সব আলো কেড়ে নিলেন সেই মহানায়ক, যিনি বেঞ্চে বসে থাকলেও খবরের শিরোনাম হন। প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোলের অনন্য কীর্তিতে মেসি পা রাখলেন ইতিহাসের নতুন চূড়ায়। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ বত্রিশে মেসিদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের বিস্ময় কেপ ভার্দে।
গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচের সবকটি জেতা তিন দলের একটি আর্জেন্টিনা। তিন ম্যাচে মেসি করেছেন সর্বোচ্চ ছয় গোল। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ১৯-এ নিয়ে গেছেন ৩৯ বছর বয়সি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বদলি মেসির জাদুর ঝলকের আগে ১৯ মিনিটে আরেকটি দর্শনীয় ফ্রিকিকে প্রথম গোলটি করেন লো সেলসো। ৩১ মিনিটে ভিএআর-এর সহায়তায় পাওয়া পেনালটি থেকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাওতারো মার্তিনেজ। ৫৫ মিনিটে জর্ডানের মুসা আল-তামারি ব্যবধান কমানোর মিনিট পাঁচেক পর মঞ্চে আবির্ভাব মহানায়কের। ৬৪ মিনিটে প্রথম ফ্রিকিক লক্ষ্যে রাখতে না পারলেও ৮০ মিনিটে আর ভুল করেননি মেসি। জর্ডানের গোলকিপার ভেবেছিলেন ২৫ গজ দূর থেকে মানব দেওয়ালের ওপর দিয়ে শট নেবেন জাদুকর। কিন্তু মেসি দেওয়ালের পাশ ঘেঁষে রংধনুর মতো বাঁকানো শটে খুঁজে নেন জাল। দুই কিংবদন্তি ফ্রান্সের জাঁ ফঁতে ও ব্রাজিলের জার্জিনহোকে পেছনে ফেলে ধরা দেন ইতহাসের আলিঙ্গনে।
পুরো ম্যাচ খেললে মেসির গোলের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হতে পারত। কিন্তু দলের স্বার্থে মেসি নিজেই তা চাননি। ম্যাচ শেষে কোচ স্কালোনি বলেছেন পেছনের গল্পটা, ‘চাইলে পুরো ৯০ মিনিট খেলে গোল সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নিতে পারত মেসি। কিন্তু সে চেয়েছিল সতীর্থরা খেলুক, যাতে সবাই পরের ম্যাচগুলোর জন্য তৈরি হতে পারে। এটাই লিওর মহত্ত্ব। সাধারণ মানুষ যেসব রেকর্ড নিয়ে মেতে থাকে, সে ওসবের তোয়াক্কা করে না।’
ফেভারিটের মতো নকআউটে উঠলেও শেষ বত্রিশের পুঁচকে প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে সর্বোচ্চ সমীহ করছেন স্কালোনি, ‘কেপ ভার্দে দারুণ এক দল। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে তারা বুক চিতিয়ে লড়েছে। আমাদের ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে।’








