কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ২০টি জাহাজে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এই হামলার জবাবে ওডেসা, সুমি ও জাপোরিঝঝিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।রাশিয়ার এই প্রতিশোধমূলক হামলায় ওডেসা ও সুমির আবাসিক ভবন এবং বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।​ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডারের দাবি, বুধবার (১৫ জুলাই) কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’ লক্ষ্য করে বড় ধরনের এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। অভিযানে দুটি গ্যাস ট্যাঙ্কার, ১৭টি তেল ট্যাঙ্কার এবং একটি টাগবোটসহ অন্তত ২০টি রুশ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে এই সফল হামলার একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করা হয়েছে। কিয়েভ আরও দাবি করেছে যে, গত ১০ দিনে তারা কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার ১৩০টির বেশি জাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।​ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলার পরপরই পাল্টা জবাব দেয় রাশিয়া। ওডেসা, সুমি ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রুশ সেনারা, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়ার ছোঁড়া ১২২টি ড্রোনের মধ্যে শতাধিক ড্রোন তারা সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।​চলমান যুদ্ধে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক 'ড্রোন চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে ইউক্রেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য নতুন করে আরও ১০ বিলিয়ন ইউরোর তহবিল অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ২০২৮ সালের মধ্যে এই অংশীদারিত্বকে অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পর্যন্ত বিস্তৃত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।​এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি 'নাফটোগাজ' এর সিইও সের্গেই কোরেতস্কিকে এই পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন তিনি।​প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আসন্ন শীতকালে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা ও যুদ্ধকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কোরেতস্কিই এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সবচেয়ে প্রস্তুত ও যোগ্য ব্যক্তি।