রাশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জোরপূর্বক নিয়োজিত ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। বাকিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি (যাদের লাইসেন্স নম্বর যথাক্রমে আরএল-১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে বৈধ ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স (জনশক্তি ছাড়পত্র) নিয়ে ওই ৩০ কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের কাজের পরিবর্তে জোরপূর্বক যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে- এমন খবর পাওয়ার পরপরই সরকার ব্যবস্থা নেয়। গত ১৫ জুন মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি পাঠিয়ে বিপদগ্রস্ত এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার ও দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

আরও পড়ুন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ / ১৬ জনের ক্যাম্পে বেঁচে আছি মাত্র ৪ জন: জামালপুরের যুবক

মন্ত্রী আরও জানান, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ৩০ জনের মধ্যে চারজন এরই মধ্যে মারা গেছেন। বাকিদের রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে উচ্চ বেতনের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমান এই তরুণরা। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।

এমওএস/একিউএফ