টানা ১০ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নওগাঁ শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শহরের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
জলাবদ্ধতায় পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন সড়কে জমে থাকা হাঁটু সমান পানিতে মাছ ধরতে দেখা গেছে অনেককেই। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নওগাঁর বিভিন্নস্থানে এ চিত্রের দেখা মেলে।
পৌর কর্তৃপক্ষের পয়োবর্জ্য অপসারণে অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে সৃষ্ট এ জনদুর্ভোগের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১টা থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শেষ হলেও বেশিরভাগ এলাকায় বিকেলেও পানি জমে ছিল। গোশতহাটির মোড় থেকে সমবায় মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে এসেছে। এসব নোংরা পানি বিভিন্ন বাড়িঘরের সামনে প্রায় হাঁটু সমান জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আর সেই পানিতে জাল ফেলে মাছ ধরার উৎসবে নেমেছেন স্থায়ীরা।
গোশতহাটির মোড় থেকে লাটাপাড়া মোড়ের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। এই সড়কে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পর কয়েকটি পয়েন্টে পানি শুকিয়ে গেলে রাস্তা ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। এসব খানাখন্দে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। হাঁটু সমান পানিতে হাঁটতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
সমবায় মোড় সংলগ্ন মৎস্য হ্যাচারি এলাকায় সড়কে মাছ ধরতে নামা আবুল কালামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, পৌরসভার ড্রেন সামান্য বৃষ্টি হলেই উপচে পড়ে। ওই ড্রেন থেকে পানি উপরে উঠে আসলে অনেক কৈ মাছ রাস্তায় জাল ফেলে ধরা যায়। সেই চেষ্টাই করছি। সকাল থেকে দুপুর অবধি দুই কেজি কৈ মাছ এবং ১ কেজির বেশি টাকি মাছ পেয়েছি। এভাবে রাস্তায় নেমে মাছ ধরার মজাই আলাদা।
শহরের আরজী নওগাঁ মধ্যপাড়ার বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার বানু বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে বাড়ির চারিদিকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত পৌর ট্যাক্স দিলেও আমাদের এই অংশে পানি বের হওয়ার কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখেনি পৌরসভা। তাই পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। বিকেলেও এই পানি কমেনি। এখন পানি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
হাট নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা মেজবা হাসান পরশ বলেন, বৃষ্টি কমার পর বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে হাঁসাইগাড়ী বিল ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। মোটরসাইকেল নিয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পার হওয়ার সময় জমে থাকা রাস্তার পানিতে খানাখন্দ বুঝে উঠতে পারিনি। উষ্টা খেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়েছি। এটা আসলে নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। পয়োবর্জ্য অপসারণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনোটাই ঠিকঠাক নেই।
নওগাঁ সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম শামীম বলেন, ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশ নিতে হাঁটু সমান পানি পেরিয়ে কলেজে গিয়ে দেখি পুরো মাঠজুড়ে জলাবদ্ধতা। কলেজের চারিদিক দিয়ে ড্রেন থাকলেও পৌরসভার পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এসব পানি বের হতে পারে না। একই ড্রেন লাখ লাখ টাকা খরচ করে বার বার ভাঙাগড়ার কাজে ব্যস্ত থাকে নওগাঁ পৌরসভা। এতে লাভ তো দূরের কথা বর্ষা মৌসুমে ন্যূনতম সুবিধাও আমরা পাচ্ছি না।
নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি.এম.এ মমিন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা এক শহর নওগাঁ। তাই রাতারাতি এই শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে বেশ কিছু এলাকায় পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবেন পৌরবাসী। পর্যায়ক্রমে পুরো শহরকে ঢেলে সাজানো হবে।
নওগাঁর বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ২৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আপাতত ভারী বর্ষণের আশঙ্কা নেই। তবে আকাশ এখনো মেঘাচ্ছন্ন।
আরমান হোসেন বলেন/এসজেডএইচ








