ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পলাতক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন
ভারতে পি কে হালদারের বিচারে যে কারণে বিলম্ব
আদালত সূত্র জানায়, এ মামলায় মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পিকে হালদারসহ ১২ জন বর্তমানে পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। অপর ছয়জন এরই মধ্যে কারাগারে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির প্রয়োজন হয়নি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান মুন এন্টারপ্রাইজের নামে ভুয়া ঋণের নথি তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে উত্তোলন করেন। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে তা পাচার করা হয়।
আরও পড়ুন
বান্ধবীকে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ‘উপহার’ দেন পিকে হালদার
মামলার তদন্তে অভিযোগ করা হয়, ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য সরাসরি সহযোগিতা করেন। জাল নথি ব্যবহার করে ঋণ গ্রহণের পর অর্থ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়, যা দুর্নীতি ও অর্থপাচার আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ঘটনায় ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল একই কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আরও পড়ুন
পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের আরও এক মামলা
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পিকে হালদার, শঙ্ক বেপারী, মো. নুরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, মো. নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ আবুল হাসেম, এম এ হাশেম, জহিরুল আলম, মো. নওশেরুল ইসলাম, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, রাশেদুল হক, সৈয়দ আবেদ হাসান, নাহিদা রুনাই, আল মামুন সোহাগ, রাফসান রিয়াদ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম খান এবং মর্জিনা বেগম।
হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে আলোচিত পিকে হালদার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগর এলাকা থেকে দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি ভারতে কারাবন্দি রয়েছেন।
এমডিএএ/এমএমকে








