নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, খেলার মাঠ ও নিচু এলাকায়ও জমেছে পানি। জলাবদ্ধতায় দূর থেকে দেখে মনে হয় রাস্তাই যেন রূপ নিয়েছে খালে। এতে প্রতিদিনের মতো অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, খাল-নালা দখল ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই প্রতিবছর এ সময়টাতেই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। প্রতি বর্ষায় একই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

আরও পড়ুন

বৃষ্টির পানিতে ধসে গেলো এলজিইডির ৯২৫ কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়ক

সরেজমিনে উপজেলার তারাবো, কাঞ্চন, ভুলতা, গোলাকান্দাইল ও মুড়াপাড়াসহ বিভিন্ন পৌরসভা এবং ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বই বোঝা যাচ্ছে না। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় উঠে এসেছে। আবার কিছু এলাকায় ড্রেন থাকলেও সেটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি আটকে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।

এতে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়ির উঠোনেই পানি হাঁটু পরিমাণ। অনেকের বসত ঘরে ২-৩ ফুট পানি। তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট। কোনো কোনো স্থানে নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এ ছাড়া শিল্প-কারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির দূষণে রোগাক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

রাস্তা নয় যেন খাল

এদিকে এমন পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অপরিষ্কার বা জলাবদ্ধ পানি ব্যবহারে চর্মরোগ, চোখের সংক্রমণ ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

ভোলায় বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, কৃষকদের মাথায় হাত

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা নয়; খাল-ড্রেন পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

চাকরিজীবী সাকের হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতায় রাস্তা ডুবে থাকায় কোথায় রাস্তা, কোথায় ড্রেন কিছুই বোঝা যায় না। হোঁচট খেতে হয়। প্রতিদিন অফিসে যেতে ভোগান্তির শেষ নেই। নোংরা পানিতে চলাচল করতে গিয়ে চর্মরোগসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ লাগবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নাগেরবাগ এলাকার শ্রমজীবী নাসির মিয়া বলেন, পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় বের হওয়াই কঠিন। জলাবদ্ধতার কারণে কাজ নেই। ঘরে খাবারের টান পড়েছে। গরিব মানুষের কষ্টটা কেউ দেখে না।

শান্তিনগর এলাকার গৃহবধূ জোসনা বেগম বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়িতে পানি উঠেছে।ঘরের ভেতরেও দুই ফুটের মতো পানি উঠে গেছে। রান্নাঘরে পানি থাকায় ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। নলকূপও পানিতে ডুবে গেছে, তাই বিশুদ্ধ পানির জন্য অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। এভাবে আর কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না।

মুদি দোকানি সজীব মোল্লা বলেন, দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। মালামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ব্যবসা একেবারে স্থবির হয়ে গেছে। দ্রুত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বাদল কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, অপরিষ্কার বা জলাবদ্ধ পানিতে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, ঠান্ডা ও কাশিসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছুদিন ধরে চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা তাদের চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দিচ্ছি।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়া সড়কগুলো বেশ আগে নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে জমি ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণে বসতি গড়ে উঠেছে। এতে ওখানকার সড়কগুলো নিচু হয়ে গেছে। তবে সমসাময়িক সময়ে আমরা সেটা মাথায় রেখে উঁচু করেই সড়ক নির্মাণ করছি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন খালগুলো দখল ও দূষণে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ইতোমধ্যেই জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

নাজমুল হুদা/এনএইচআর/জেআইএম