রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রণয়নের লক্ষ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষক থাকলে তাঁদের চিহ্নিতকরণ, করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ফ্যাসিবাদ সহযোগিতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্ত করে দেখবে এই কমিটি।

অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী কোনো ব্যক্তি, তাঁর পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে, ছাড় পাবেন না। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের নাম প্রকাশ করা হয়।