বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, এমন খবর চাওর হয়েছে আন্তর্জাতিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এদিকে, নির্ধারিত সময়ের আগেই থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা আরও জোরালো হলো।
সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর বর্তায় একটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অপরটি সংসদীয় নির্বাচন বা জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার। ৯০ দিনের মধ্যেই নিয়ম অনুযায়ী সেই নির্বাচন করে থাকে ইসি।
সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদে যা আছে
এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এটি সর্বোচ্চ সময়সীমা, তার আগেও নির্বাচন হতে পারে।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন
সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ বলছে
আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পরে মনোনয়নপত্র জমা ও ভোট গ্রহণের দিন তারিখ ঘোষণা করবে ইসি। মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। ভোট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে সংসদ ভবনে।
ফলে কোনো দল উত্তরসূরি হিসেবে কারও নাম ঠিক করলেই তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবেন না। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হতে হবে।
ইসি জানায়, সংবিধানের ১১৯ (১) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
আরও পড়ুন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / স্বাস্থ্যগত বা যে কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অপশন আছে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে এই নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ থাকবে। ভোট হবে সংসদ কক্ষে। সংসদের অধিবেশন না থাকলেও স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা
রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীকে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে আগে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রার্থীকে বর্তমান সংসদ সদস্য হতে হবে না। তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
দেশে ফিরলেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়, প্রকাশ্য
প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি ভোট থাকে। ভোটার ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করে সেটি সংগ্রহ করেন। এরপর যাকে ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করেন। সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের
সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই একমাত্র ভোটাভুটি হয়েছিল। বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর প্রতিটি নির্বাচনে একজন বৈধ প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
এমওএস/এসএনআর








