জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজন করেছিল জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে ৩৬ জুলাই নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং খালেদা জিয়ার ছবি না থাকার অভিযোগে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা হয়। এ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্র সম্মেলন কেন্দ্রে আজ বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে দেখানো প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্য চিত্রটি শেষ হওয়ার পরেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের একাংশ বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা হয়। একপর্যায়ে এনসিপির নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান।

পরে বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই ডকুমেন্টারিতে (প্রামাণ্যচিত্র) অনেক ভুল রয়েছে। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, তাঁর ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও নাই। কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মাননীয় মন্ত্রী জোড় হাতে স্বীকার করে বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর তো শান্ত হওয়া উচিত। জাতীয় অনুষ্ঠানে এটাকে পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা বাঞ্ছনীয় নয়।’

বিশৃঙ্খলা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। কিন্তু এখানে যে দৃশ্য দেখলাম, সেটি দেখে অত্যন্ত দুঃখিত, লজ্জিত এবং ব্যথিত হয়েছি। সকালে জাতীয় ঐক্য সহজেই প্রতিভাত হয়েছিল। কিন্তু বিকেলের এই অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, তা একেবারেই অনভিপ্রেত। এখানে বিদেশিরা বসা ছিলেন, আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম যে ইংরেজিতেই ভাষণ দেব। বিদেশিরা দেখুক ১৬ বছর আমরা কীভাবে কাটিয়েছি। জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না। বিদেশিদের সামনে যে নাস্তানাবুদ হলাম, এটি আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে।’

নেতা ও অনুসারীদের আচরণের সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি লক্ষ্যে করেছি, মাননীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আখতার হোসেন তাঁর অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে নেতাকে তো সহজে অনুসারীরা মানে না। প্রতি মুহূর্তেই তাঁরা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণের জন্য মুখিয়ে থাকে। সে কারণেই এই ধরনের একটা অনুষ্ঠানের এই পরিণতি হলো। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কেউ ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করে, এগুলো কি মানায়? কবে আমরা শিখব?’