সিলেটের বিশ্বনাথের ছাবাল শাহ’র মাজারে বৃহস্পতিবার রাতে গানের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বাউল শিল্পি পেহলি ভৈরবী। রাতে গান গেয়ে মাতিয়ে তুলেছিলেন সবাইকে। তার গানে মুগ্ধ হয়েছিল সবাই। কিন্তু পরে দিন সকালেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পান ভক্তরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন শিল্পি পেহলি ভৈরবী। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা।
গানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বিশ্বনাথের বাসিন্দা জানান, ‘আমি গানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। তার বেশ কিছু ভিডিও ধারণ করেছি এবং লাইভও দিয়েছি। আমরা জানি, তার বাড়ি ভৈরবে। এর আগেও তিনি এ মাজারে এসে গান গেয়েছেন।’
জানা যায়, শাহীন আহমদ তার বন্ধন স্টুডিও নামে একটি ফেসবুক পেইজে শিল্পি পেহলি ভৈরবীর বৃহস্পতিবার রাতের গাওয়া একটি গান প্রচার করেন। গানের অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন সোহল আহমদ নামে এক ব্যক্তি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাঁড়া দেননি।
ছাবাল শাহ মাজার এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আনিছ আহমদ বলেন, ‘মাজারে প্রায় সময় গানের আসর বসে। বিভিন্ন এলাকার শিল্পিরা আসেন। গতকাল রাতেও গানের অনুষ্ঠান হয়েছে। আমি গতকাল যেতে পারিনি। তবে আমার বাড়ি থেকে গান শুনতে পেয়েছি।’
এর আগে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), ঢাকা বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জাইফা (৩), কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানার গোবরীনা লক্ষীপুর গ্রামের মৃত সাফি মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও একই জেলার ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পি পেহলি ভৈরবী।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশে মুনীর বলেন, দুর্ঘটনার ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন মৃত ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মুত্যু হয়। বাকি ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে একজন আইসিইউতে ও একজনের জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বাকিরা শঙ্কামুক্ত।
আহমেদ জামিল/কেএইচকে








