নরসিংদীর রায়পুরা থেকে নীলকুঠি পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আর বৃষ্টিতে সেই গর্তে পানি ও কাদা জমে কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ, যানবাহনচালক, যাত্রী ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। গর্তে পড়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, রায়পুরা থেকে নীলকুঠি পর্যন্ত সড়কের পৌর রায়পুরা বাজারের পর ঝুগীবাড়ি, হাসানের মোড়, রাজপ্রাসাদ, আশরাফপুর, মহেশপুর, সাপমারা ও মুছাপুরসহ বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও বড় গর্তে পানি ও কাদা জমে আছে।
এসব অংশে ধীরগতিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রাক্টর, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন।
ভুক্তভোগীরা জানান, পূর্বাঞ্চলের মির্জাপুর, মুছাপুর, মহেশপুর, চাঁনপুর, শ্রীনগর ও রায়পুরা ইউনিয়নের হাজারো মানুষের উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়ক। বিকল্প সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের।
সড়কের গর্তে পানি জমে থাকায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও বেড়েছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলার সময় গর্তের কাদাপানি ছিটকে পড়ছে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের শরীরে। এতে পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, ‘সড়কের গর্তে সব সময় পানি জমে থাকে। স্কুলে যাতায়াতের সময় গাড়ির চাকায় গর্তের কাদাপানি ছিটকে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় হেঁটেও চলা যায় না।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রী মজনু মিয়া বলেন, ‘মুছাপুর, মহেশপুর, রায়পুরা ইউনিয়নসহ আশপাশের হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। প্রায়ই গাড়ি গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা—দেখার যেন কেউ নেই। দ্রুত রাস্তাটা ভালো করা দরকার।’
অটোরিকশাচালক আবদুর রহিম বলেন, ‘বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি প্রায়ই নষ্ট হয়। কাদাপানি যাত্রীদের গায়ে ছিটকে পড়ে, এ কারণে অনেকে গাড়িতে উঠতে চান না। আয়ও আগের তুলনায় কমে গেছে।’
চালক মজনু মিয়া বলেন, ‘দিনে ১০ থেকে ১২ বার এই সড়কে গাড়ি চালাই। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের মধ্যে আছি। গর্তে পানি জমে থাকায় প্রায়ই গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। গাড়িতে কাদাপানি উঠলে যাত্রীরাও বিরক্ত হন। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা প্রয়োজন।’
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাদাপানি ও বেহাল সড়কের কারণে ক্রেতারাও দোকানে আসতে চান না। এতে ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর একই সমস্যা দেখা দেয়। টেকসই সমাধানের জন্য সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করতে হবে বলে দাবি তাঁদের।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মেরামতের জন্য এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে আশা করি, দ্রুত সংস্কারকাজ করা যাবে।’








