টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কায় শহরে জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।শহরবাসীকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ ব্রিহানমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)।বিএমসির স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টিমাপক যন্ত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ভিখরোলি পশ্চিমে- ৩১০.৬ মিলিমিটার। কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬.৬ এবং ভিখরোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপ্যাল স্কুল এলাকায় ৩০১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।মালাবার হিল, মান্দাভি, কোলাবা, আন্দেরি, জোগেশ্বরী ও গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে রেললাইনে পানি জমে যাওয়ায় সেন্ট্রাল ও ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের শহরতলির ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে মেট্রোর ২এ লাইনের পরিষেবাও সাময়িক বন্ধ থাকে। রোববার সকালে মেট্রো ও বেস্ট বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শহরতলির ট্রেনে কিছুটা বিলম্ব দেখা গেছে।বিশেষ করে নিচু ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকেল ৩টায় ৪.১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ার আসতে পারে। আবার সোমবার ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে আরেকটি ৩.৫১ মিটারের জোয়ার হতে পারে।শনিবারের প্রবল বর্ষণে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়, সড়কে ধস নামে, গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাশের থানে, পালঘর, নবি মুম্বাই ও পুনে অঞ্চলও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, রোববারও কয়েকটি এলাকায় ভারী এবং বিচ্ছিন্নভাবে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৫৫-৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।জরুরি সহায়তার জন্য বিএমসির হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সব ধরনের সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।