বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর মিসরের পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের রেফারিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কলিনা বলেন, ফুটবলে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ শুধু রেফারিদের নয়, তাদের পরিবারকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনা করতে গিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন রেফারিরা আরও ভালোভাবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেন। গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই।
তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ পরিচালনায় ফিফার রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। এমনকি, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিংয়ে কোনো ধরনের প্রভাব খাটাতে পারেন না। ম্যাচ কর্মকর্তারা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। খেলোয়াড় বা কোচদের মতো তারাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে মিসরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে রেফারির ওপর চাপ থাকতে পারে। একই সঙ্গে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ভিএআর ব্যবহারে গুরুতর প্রশ্ন তুলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়। তাছাড়া মিসরের দাবি, মোস্তফা জিকোর দ্বিতীয়ার্ধের গোল যে ফাউলের অজুহাতে বাতিল করা হয়, সেটি কোনো ফাউলই ছিল না। তাছাড়া আর্জেন্টিনার তৃতীয় জয়সূচক গোলের ঠিক আগে মোহামেদ সালাহ যে ফাউলের শিকার হন, তার কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কলিনার ব্যাখ্যা, ভিএআরের হস্তক্ষেপ ছিল নিয়মসিদ্ধ।








