রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়; এটি মানবাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অভিবাসন, পরিবেশ এবং ভূরাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (বিআইআইটি) সম্মেলনকক্ষে ‘ন্যাভিগেটিং রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইজ রিপ্যাট্রিয়েশন আ ডিস্ট্যান্ট ড্রিম?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিআইআইটি ট্রাস্টের সহযোগিতায় এবং সেন্টার ফর সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগের (সিসিডি) উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সিসিডির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিআইআইটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তুরস্কের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই। এতে শিক্ষাবিদ, সাবেক কূটনীতিক, গবেষক, সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াসিন আকতাই বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে তুরস্ক ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজ বলেন, রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট। এ সমস্যা এখন কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি, নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এর স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সংহতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকট কক্সবাজার ও ভাসানচরের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসন, মানবপাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার মতো বিষয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানকে বৈশ্বিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

আরও পড়ুন

বছরজুড়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর চোখরাঙানি

বক্তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তুরস্কসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেন সুজন এর প্রতিষ্ঠাতা-সচিব এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট এর সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি এর সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফজলি ইলাহী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর ড. আবুল হাসান মু. সাদেক, ডেইলি সাবাহ’র সিনিয়র সম্পাদক ইসাম শেহাদাত, আল-কুদস ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন (কিউআইআই) উপ-মহাপরিচালক ড. আইমান জেইদান, রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) এর সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক (পিএসসি), দৈনিক নিউ নেশন এর সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার।

এসএইচএস