ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ১৬ বছর বয়সী কিশোর নাঈম হাসান নাহিদকে ১৫ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দিয়েছেন ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাজী ইয়াকুব। সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এই চেক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান।

তাকে আজ ১৫ লাখ টাকার চেকসহ মোট ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন মালিকপক্ষ। এরপর আপিল বিভাগ আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতে শিশুর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ওমর ফারুক।

তিনি জানান, আজসহ মোট তিন দফায় এ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশে আজকের ১৫ লাখ টাকাসহ মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল কিশোর নাহিদ।

২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে ১৫ লাখ টাকা একই বছরের এপ্রিল মাসে এবং বাকি অর্থ ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি এফডিআর করে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আর শিশুটির এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। ওয়ার্কশপের মালিককে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।

পরে মালিকপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

আরও পড়ুন

‘বিচার চাইতে এসেছি’ / শিশু নাঈমের কথা শুনে চকলেট দিলেন আদালত

২০২০ সালের ১ নভেম্বর ‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিশুটির বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে শিশুটিকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা নিজ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান করতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রুলের ওপর ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর শুনানি শেষ হয়। এরপর পরের বছরের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন।

২০২০ সালের ১ নভেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নাঈম হাসানের বয়স ১০ বছর। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতা ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার হোসেন কর্মহীন হয়ে পড়েন। এসময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। ওই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই মাসখানেক আগে তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হয়।

আরও পড়ুন

ওয়ার্কশপে হাত বিচ্ছিন্ন / শিশু নাঈমকে ৩০ লাখ টাকা ডিপোজিট করে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, ৬ বছরের আইনি লড়াই আজ সফল হলো। আদালতের রায়ে মোট ৩০ লাখ টাকা পেল কিশোর নাহিদ। আজ ১৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল নাহিদ। এছাড়া পড়ালেখার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে পাবে নাহিদ।

এফএইচ/এমআইএইচএস