কে-পপের সীমানা ছাড়িয়ে গ্লোবাল মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে লাইভ কনসার্টের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল বিটিএস। চলমান ‘আরিরাং ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ দিয়ে বিলবোর্ড বক্সস্কোরে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস তৈরি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ব্যান্ড। কনসার্ট থেকে এক মাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড এখন বিটিএসের দখলে। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিল কিংবদন্তি ব্রিটিশ রক ব্যান্ড দ্য রোলিং স্টোনস।

বিলবোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি শো থেকে ১২৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্সস্কোরের ‘টপ ট্যুরস’ চার্টের শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে বিটিএস। মে মাসে তাদের ৬ লাখ ৪১ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ব্যান্ডটির আরিরাং ওয়ার্ল্ড ট্যুরের যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো পর্বের কনসার্টগুলো থেকে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে তারা।

মে মাসে বিটিএসের সবচেয়ে বড় ধামাকা ছিল লাস ভেগাসের টানা চার রাতের কনসার্ট। শুধু এই চার কনসার্ট থেকেই এসেছে ৪৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার টিকিট। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও মেক্সিকো সিটির প্রতিটি কনসার্ট থেকেও ব্যাপক সাড়া পেয়েছে বিটিএস।

এক মাসে এই বিপুল রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে বিটিএস অনায়াসেই ভেঙে দিয়েছে দ্য রোলিং স্টোনসের আগের ৯৫ মিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড। বিখ্যাত ‘নো ফিল্টার ট্যুর’ থেকে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে এই আয় করেছিল ব্রিটিশ রক ব্যান্ডটি।

২০১৯ সালে বিলবোর্ড যখন প্রতি মাসের কনসার্ট আয়ের এই চার্ট বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করে, তখন থেকেই সাত বছর ধরে রোলিং স্টোনস শীর্ষে ছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে এসে বিটিএস শুধু সেই রেকর্ড ভাঙেনি, বরং বিশাল ব্যবধানে রোলিং স্টোনসকে পেছনে ফেলেছে।

বিটিএস সদস্যরা বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কারণে চার বছর বন্ধ ছিল ব্যান্ডটির কার্যক্রম। গত ২০ মার্চ নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশের মাধ্যমে আবারও সংগীতের দুনিয়ায় পা রাখে তারা। ‍৯ এপ্রিল শুরু করে আরিরাং ওয়ার্ল্ড ট্যুর। এখন পর্যন্ত এই সংগীতসফর থেকে ২০৪ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, আর বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ টিকিট। এ বছরের বাকি সময় এবং ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৫০টির বেশি কনসার্ট করার শিডিউল রয়েছে বিটিএসের।