আমার দৃষ্টি এখন ক্লান্ত।

ভেতরে তাকালেই আমি রূপান্তরিত হয়ে যাই।

তুমি যখন অন্ধকার হও,

হারানোর ভয় থাকে না তখন আমার।

তুমি যখন মুখোমুখি বসো,

নিজেকে মনে হয় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি—

যেন এইমাত্র মুক্তি পেলাম।

আমি যতই গভীরে যাই,

নিজেকে আমি হারিয়ে ফেলি।

হারানোটাই এখানে প্রাপ্তি।

দৃষ্টি বিশ্বাসঘাতক প্রহরী,

তাই মাঝে মাঝে হয়—দৃষ্টিকে নির্বাসনে পাঠাই।

আমি চাই, নিশ্বাসের পথ চিনে সে আবার ফিরে আসুক

স্যাঁতসেঁতে আঁধারে।

বয়স বাড়ছে ক্যালেন্ডারের উল্টো দিকে,

আর আমি দিনে দিনে আটকে যাচ্ছি তোমার ভাঁজে।

দুজনেই যেন নজরকাড়া দুটি শহর,

অন্ধকারের নোনাজলে চর্বি গলিয়ে—

শরীরের শিরা যখন কথা বলে ওঠে ঢেউয়ের প্রতিকূলে,

আমি তার তরঙ্গ ছুঁয়ে দেখি।

সাম্রাজ্যের মার্জিন এখনো টানা হয়নি,

রোমের দূরত্ব এখনো অনেক বাকি।

স্বপ্নচূড়ায় উঠে নিজেই নিজের তখন মূর্তি ভাঙি।

ধ্বনিবিদ্যায় তুমি যে বড়ই মায়াবী।

প্রতিসাম্যে ঈশ্বরও জোড়ায় জোড়ায় হাঁটেন তখন,

আর মানুষ দেবালয়ে ধূপ জ্বালে।

পাঁজরের গুহায় ধাক্কা খেয়ে,

পাখির মতো আমি তখন মরে যাই।

আক্ষেপের আকাঙ্ক্ষায় আমরা নির্বাসনে,

তবুও শালিকের পাখা থেকে যেন ঝরে পড়ে বিকেলের স্নিগ্ধতা।

ঢেউয়ের গর্জনে ঝড়ের নৌকা যেন নোঙর ছিঁড়ে যায়।

লেখক: শরীফুল আলম, বোর্ড মেম্বার, পিভিসি কনটেইনার করপোরেশন, ইউএসএ

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]