মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের আটক কেন্দ্রগুলোতে (ডিপো) গত পাঁচ বছরে ৪৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।

মৃতদের মধ্যে ১২ জন শিশু থাকায় বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পার্লামেন্টে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন শিশু। শিশুদের মধ্যে আটজন ছেলে ও চারজন মেয়ে।

সোমবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকায়াত-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

অপহরণ মামলা / মালয়েশিয়ায় ৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন দুই বাংলাদেশি

তিনি জানান, আলোচ্য পাঁচ বছরে ইমিগ্রেশন বিভাগের বিভিন্ন ডিপোতে মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৬ জনকে আটক রাখা হয়েছিল। সে হিসাবে মৃত্যুর হার মোট আটক ব্যক্তির প্রায় ০.১৩ শতাংশ।

জাতীয়তাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ফিলিপাইনের নাগরিক। পাঁচ বছরে তাদের ২২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ১০৯ জন এবং মিয়ানমারের ৬১ জন নাগরিক।

jagonews24

অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন, পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, ব্রুনেই, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের মিলিয়ে আরও ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব দেশের মধ্যে কোন দেশের কতজন মারা গেছেন, সে বিষয়ে পৃথক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

সাবাং আসনের সংসদ সদস্য ওং চেন ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা, ডিপোভিত্তিক তথ্য, জাতীয়তা, লিঙ্গ এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তার লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, অধিকাংশ মৃত্যুর পেছনে বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যগত কারণ দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে সেপসিস ও সেপটিক শক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্‌রোগ ও রক্তনালিজনিত জটিলতা, পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের রোগ। এছাড়া এইচআইভি/এইডস, লেপ্টোস্পাইরোসিস এবং মেনিনজাইটিসের মতো সংক্রামক রোগেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিপোতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক আটক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।

jagonews24

এছাড়া সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা আটক ব্যক্তিদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের দ্রুত সরকারি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী, পোশাক ও কম্বল সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সপ্তাহে অন্তত একবার খোলা পরিবেশে বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তবে শিশুসহ শত শত মৃত্যুর এই সরকারি পরিসংখ্যান মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোর স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন পরিস্থিতি এবং আটক ব্যক্তিদের মানবিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিক ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের আটক রেখে পরিচালিত এসব ডিপোর পরিবেশ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনাও আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

এমআরএম