বিশ্বকাপের গ্রুপ কে-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পর্তুগাল। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর আবারও সমালোচনার মুখে পড়েন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই ম্যাচে কোন প্রভাবই ফেলতে পারেননি এই আল নাসর তারকা। পুরো ম্যাচে মাতে ১টি শট গোলমুখে নিতে পেরেছিলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অবশ্য পাশে দাঁড়িয়েছেন রোনালদোর। তাকে কেন পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রেখেছিলেন তার ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো এমন একজন খেলোয়াড়, যে প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে অনেক মুভমেন্ট করেছে। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো বাকি ১০ জনের সঙ্গে তার চলাফেরা ও সমন্বয় ঠিক রাখা। এটি দল হিসেবে উন্নতির একটি অংশ। ক্রিশ্চিয়ানো খুব ভালো শারীরিক অবস্থায় আছে। আমরা ম্যাচ চলাকালীনই তার শারীরিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করি এবং সে খুব, খুব ভালো অবস্থায় ছিল। এখন আমাদের চার দিন বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে এবং আমরা সব খেলোয়াড়কেই একইভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

ম্যাচে কলম্বিয়াই বেশি ভালো খেলেছে এবং জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এমনকি ভিএআরের মাধ্যমে অল্পের জন্য অফসাইড ধরা পড়ায় তাদের একটি গোল বাতিল হয়। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ স্বীকার করেন, এটি পর্তুগালের প্রত্যাশিত মানের ছিল না। তবে তিনি দলের রক্ষণভাগের প্রশংসা করেন এবং ম্যাচটিকে খুবই মূল্যবান অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটি পর্তুগালের চাওয়া ধরনের ম্যাচ ছিল না। কলম্বিয়ার মতো মানসম্পন্ন দলকে সম্মান জানাতেই হবে। আমাদের জন্য অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইতোমধ্যে আমাদের ২১ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অভিষেক করেছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলের দখল বেশি রেখেছিল। এই ম্যাচ থেকে আমাদের অনেক বিষয় ঠিক করতে হবে। বিশ্বকাপে এমন ম্যাচ আসবেই, যেখানে সবকিছু পরিকল্পনামাফিক হবে না। তখন মানিয়ে নিতে জানতে হবে। আমার মনে হয়েছে, পুরো ম্যাচজুড়েই দল ভালো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কলম্বিয়া দূরপাল্লার অনেক শট নিয়েছে। আমাদের নিজেদের বক্স ভালোভাবে রক্ষা করতে হয়েছে এবং আমরা সেটি ভালোভাবেই করেছি। এখন লক্ষ্য হলো আরও উন্নতি করা, বলের দখল বাড়ানো, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং দলের ব্যক্তিগত প্রতিভাগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো। তবে এটাই বিশ্বকাপের বাস্তবতা। এখানে বিভিন্ন ধরনের খেলার ধরণ থাকে। আমি আগেই বলেছি, এই তিনটি ম্যাচ আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। এটি আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান একটি ম্যাচ ছিল।’

গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ায় শেষ ষোলোতে ২ জুলাই টরন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। মার্তিনেজের মতে, এখন থেকে যেন নতুন একটি টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে, ‘আমাদের ভাবনা হলো, প্রথম বিশ্বকাপ ছিল এই তিনটি ম্যাচ। আমি খেলোয়াড়দের এবং আমাদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি। প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। এখন আমাদের পরিচিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ জয় বা হার—এখনই বলা যাবে না, সেটি বিশ্বকাপ জয়ের পথে সুবিধা নাকি অসুবিধা। সামনে যে পথ রয়েছে, সেটাই আমাদের পথ। যদি আমাদের লক্ষ্য হয় আটটি ম্যাচ খেলা, তাহলে সেই পথ ধরেই এগোতে হবে। তাই আজকের ফলাফল আমাদের কাছে কোনো পার্থক্য তৈরি করে না।’

নকআউট পর্বের আগে দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী বলেও মনে করছেন মার্তিনেজ। ‘দল এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত। কঠিন সময় পার করে তারা আরও পরিণত হয়েছে, আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মানসিক দৃঢ়তা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মবিশ্বাস—সব দিক থেকেই দল এগিয়েছে।’

আরআর/জেআইএম