রুপার গয়না এখন আর শুধু সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়, বরং অনেকের কাছে এটি বিনিয়োগেরও একটি মাধ্যম। সোনার দাম ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় এখন অনেকেই ঝুঁকছেন রুপার গয়নার দিকে। বাজারে স্টার্লিং সিলভার, অক্সিডাইজড সিলভার কিংবা বিভিন্ন ডিজাইনের রুপার অলংকারের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভেজাল ও নকল রুপার ব্যবসাও। ফলে না জেনে বা যাচাই না করেই গয়না কিনলে আসল ভেবে নকল রুপা বাড়িতে নিয়ে আসার ঝুঁকি থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম দাম দেখে রুপার গয়না কেনা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ অনেক সময় বিশুদ্ধ রুপার পরিবর্তে বিভিন্ন ধাতু মিশিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয় যে খালি চোখে তা বোঝা কঠিন। তাই কেনার আগে কয়েকটি সহজ বিষয় জেনে রাখলে প্রতারণার হাত থেকে সহজেই বাঁচা সম্ভব।
রুপার গয়না কেনার আগে শুধু ডিজাইন নয়, বিশুদ্ধতাও যাচাই করুন
স্টার্লিং সিলভার কী?
বিশুদ্ধ রুপা তুলনামূলক নরম হওয়ায় গয়না তৈরির জন্য সাধারণত এতে সামান্য তামা মেশানো হয়। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্টার্লিং সিলভারে থাকে ৯২.৫ শতাংশ বিশুদ্ধ রুপা এবং বাকি ৭.৫ শতাংশ তামা বা অনুমোদিত অন্য ধাতু। এই কারণেই আসল স্টার্লিং সিলভারের গয়নায় সাধারণত ৯২৫ হলমার্ক খোদাই করা থাকে।
তবে শুধু ‘৯২৫’ লেখা থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। কারণ অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় নকল গয়নাতেও এই চিহ্ন ব্যবহার করে থাকেন। তাই আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।
কেন ভেজাল রুপা বিপজ্জনক?
খরচ কমাতে অনেক নির্মাতা অনুমোদিত ধাতুর পরিবর্তে ক্ষতিকর ধাতু ব্যবহার করেন। বিশেষ করে কিছু নিম্নমানের গয়নায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘদিন শরীরের সংস্পর্শে থাকলে ধীরে ধীরে শরীরে জমতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ক্যাডমিয়াম কিডনি, হাড় এবং শ্বাসযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি, চুলকানি কিংবা জ্বালাপোড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই গয়না কেনার সময় শুধু ডিজাইন নয়, ধাতুর মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
‘৯২৫’ হলমার্ক আছে কি না দেখুন
আসল স্টার্লিং সিলভারের গয়নায় সাধারণত ৯২৫ , স্টার্লিং বা সমমানের স্বীকৃত হলমার্ক থাকে। এটি বিশুদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলেও একে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে ধরা উচিত নয়।
চুম্বক দিয়ে পরীক্ষা করুন
রুপা স্বাভাবিকভাবে চুম্বকের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। একটি শক্তিশালী চুম্বক গয়নার কাছে ধরুন। যদি গয়নাটি চুম্বকে শক্তভাবে লেগে যায়, তাহলে সেটি সম্ভবত বিশুদ্ধ রুপা নয়।
সাদা কাপড় দিয়ে ঘষে দেখুন
একটি পরিষ্কার সাদা নরম কাপড় দিয়ে গয়নাটি ঘষুন। কাপড়ে যদি হালকা কালচে দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি রুপার স্বাভাবিক অক্সিডেশনের লক্ষণ হতে পারে। তবে কোনো দাগই না পড়লে সেটি নকল-এমন সিদ্ধান্তও সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া ঠিক নয়।
তাপ পরিবাহিতার কারণে রুপার ওপর বরফ দ্রুত গলে
বরফ পরীক্ষাও করতে পারেন
রুপা তাপের খুব ভালো পরিবাহক। গয়নার ওপর একটি বরফের টুকরো রাখুন। যদি বরফ খুব দ্রুত গলতে শুরু করে, তাহলে সেটি রুপা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ওজন লক্ষ্য করুন
একই আকারের অন্যান্য ধাতুর তুলনায় রুপা তুলনামূলক ভারী অনুভূত হয়। যদি বড় আকৃতির গয়না অস্বাভাবিক হালকা লাগে, তাহলে সেটি নিয়ে সন্দেহ করা যেতে পারে।
রঙের দিকেও নজর দিন
আসল রুপার উজ্জ্বলতা মার্জিত ও প্রাকৃতিক। অতিরিক্ত চকচকে বা কৃত্রিম রূপালি ফিনিশ অনেক সময় নিম্নমানের ধাতুর লক্ষণ হতে পারে। এসব গয়নার রংও দ্রুত বিবর্ণ হয়ে যায়।
অস্বাভাবিক কম দাম দেখলে সতর্ক হোন
স্টার্লিং সিলভার একটি মূল্যবান ধাতু। তাই বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে রুপার গয়না বিক্রি হলে তা নিয়ে সতর্ক হওয়াই ভালো। খুব কম দামের লোভে কেনা গয়না পরে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হতে পারে।
আরও পড়ুন
বড় ফ্রেমে বদলে যাবে পুরো লুক, ওভারসাইজড সানগ্লাসেই ফ্যাশন
কেনার সময় যা করবেন
সব সময় বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা পরিচিত জুয়েলারি শোরুম থেকে রুপার গয়না কেনার চেষ্টা করুন। হলমার্ক ভালোভাবে পরীক্ষা করুন, প্রয়োজনে বিশুদ্ধতার সার্টিফিকেট চান এবং অবশ্যই ক্রয়ের রসিদ সংগ্রহ করুন। এতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে দাবি জানানো সহজ হবে।
আরও পড়ুন
নারীরা ব্যাগে সব সময় কেন লিপস্টিক রাখেন
রুপার গয়না কেনা মানেই শুধু সৌন্দর্যে বিনিয়োগ নয়, এটি নিরাপত্তার বিষয়ও। তাই সামান্য সচেতনতা আপনাকে নকল পণ্য এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি- দুই থেকেই দূরে রাখতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিহাউ
এসএকেওয়াই








