গত কয়েক বছরে পুরো বিশ্বে রূপচর্চার ধরন বদলে গেছে। শুধু ক্লিনজার আর ময়শ্চারাইজারে ঠেকে নেই ত্বকসচেতনেরা। ক্লিনজার থেকে ময়শ্চারাইজারে বা সানস্ক্রিনে এসে ঠেকতে পার হতে হচ্ছে আরও দুই থেকে চার ধাপ।

চুলের ক্ষেত্রে মাথার ত্বকে হট অয়েল ম্যাসাজ থেকে শুরু করে প্যাক, দুই ধাপে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ও সেরামের পাট চুকিয়ে থামতে হচ্ছে টনিকে এসে। তবে এখানেই শেষ নয়, মেকআপ তোলার সময়ও একাধিক ধাপ মেনে চলছেন এখন অধিকাংশই। অসংখ্য মানুষ ত্বক ও চুলের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করছেন। ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়েও অনেকে ড্রেসিং টেবিলের ওপর প্রসাধনীর কৌটো সাজিয়ে রাখছেন!

মোদ্দাকথা হলো, এত কিছু করেও কিংবা এত যত্নের পরও ত্বক আর চুলের লক্ষণীয় উন্নতি যাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না, তাঁদের কাছে প্রশ্ন, রূপচর্চার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা কি ভেবেছেন?

বিশ্বায়নের এই যুগে বিভিন্ন দেশের নানা ব্র‍্যান্ডের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে হাতের নাগালে। আবার ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম খুললেই ত্বক ও চুলের যত্নবিষয়ক যেসব ভিডিও স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, সেগুলোও পরোক্ষভাবে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে বিভিন্ন প্রসাধনী কেনার জন্য। তবে যত যা-ই করুন না কেন, দিন শেষে আমাদের ত্বক ও চুলের চাহিদাটুকু পূরণ করাই যথেষ্ট। এ বিষয়ে রূপবিশেষজ্ঞ ও বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ারের স্বত্বাধিকারী শারমিন কচি বলেন, ত্বক ও চুলের নির্দিষ্ট কিছু চাহিদা রয়েছে। সেসব চাহিদা আবার ত্বক ও চুলের ধরনভেদে হয়। প্রয়োজন না থাকলে প্রতিদিন একাধিক প্রসাধনী ব্যবহারে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে।

ত্বক ও চুলের অতিরিক্ত যত্নের ফলে বা অতিমাত্রায় প্রসাধনী ব্যবহার করায় যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—

শারমিন কচি বলেন, ‘প্রতিদিনের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে ত্বক ও চুলের সমস্যার ৮০ ভাগ সমাধান হয়ে যায়। তাই বলে সেরাম, এক্সফোলিয়েটর কিংবা টনিকের প্রয়োজন নেই, তা নয়। না বুঝে কোনো কিছু ব্যবহার করা যাবে না, এটা হচ্ছে আসল কথা। ত্বকে অ্যালার্জিক রিয়েকশন হতে পারে এমন সেরাম, টোনার এড়িয়ে চলাই ভালো। ত্বক, চুল ও মাথার ত্বকের সমস্যা বুঝে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী এসব প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ডার্মাটোলজি টেস্টেড প্রসাধনী ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।’

শারমিন কচি আরও বলেন, নতুন পণ্য ব্যবহারের পর ত্বক এবং চুলে সমস্যা দেখা দিলে কিছুদিন সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। তবে রোজকার ব্যবহারের জন্য শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, ক্লিনজার, টোনার, ময়শ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন বাদে বাড়তি কিছু ব্যবহার না করে কিছুদিন দেখুন। এরপর সমস্যা কমলে বাড়তি পণ্যগুলো ড্রেসিং টেবিল থেকে সরিয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার চুলে হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট এবং মুখে গরম পানির ভাপ নিলে মুখ ও মাথার ত্বকের টক্সিন আর ময়লা বেরিয়ে আসবে।

দিনে দুবার ক্লিনজার অথবা ফেসওয়াস ব্যবহার করলে ক্ষতি নেই। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে অথবা সানস্ক্রিন ব্যবহারের পর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সাধারণত সানস্ক্রিন লাগানোর দুই ঘণ্টা পর তা ধুয়ে আবার লাগানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ত্বকের উপরিভাগের মরা কোষ দূর করার জন্য সপ্তাহে একবার স্ক্রাব ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

এ ছাড়া দিনে দুবার ময়শ্চারাইজার দিতে হবে। এসি রুমে থাকলে ত্বকের প্রয়োজন বুঝে হাত ও পায়ে দিতে হবে ময়শ্চারাইজার। তবে ত্বকে ওয়াটার বেজড কিংবা অয়েল বেজড ময়শ্চারাইজার দেওয়ার আগে জানতে হবে, ত্বকের ধরন কী রকম। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সাধারণত ওয়াটার বেজড ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চুলে সপ্তাহে তিনবার তেল দেওয়া এবং শ্যাম্পু করা যাবে। হেয়ার টনিক সপ্তাহে তিনবারের বেশি ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।