নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপর জিন ভড় করেছে, আর জিন তাড়ানোর জন্য ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতসহ মানসিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওই মাদ্রাসাসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক সময় কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়। তবে, চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

জানা গেছে, নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ কবিরাজের মাধ্যমে পাশের তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর জিন চালান করিয়েছে-এমন অভিযোগ করেছেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা। গত পাঁচ দিন ধরে তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার ১৩-১৪ জন শিক্ষার্থী অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে মাদ্রাসার শিক্ষকরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ওপর জিন তাড়ানোর নামে বেত্রাঘাত, মানসিক নির্যাতন ও অপচিকিৎসা শুরু করেন। আর শিক্ষার্থীদের ওপর জিন ভর করেছে-এমন সংবাদে ওই মাদ্রাসাসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক খালেদ হাসান মোরসাদেক অভিযোগ করে জানান, পার্শ্ববর্তী নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ কবিরাজের মাধ্যমে তাদের মাদ্রাসার ক্ষতি করার জন্য শিক্ষার্থীদের উপর জিন চালান করা হয়েছে।

অপরদিকে, নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ পালটা অভিযোগ করে জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর জিন চালানের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। অনেক সময় মানসিকভাবে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর সেজন্য রয়েছে হাসপাতাল ও চিকিৎসক। তারা ডাক্তারি পরামর্শ না নিয়ে আমার ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে।

অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানান, পাঁচ দিন আগে তিন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তারা নিজেরাই নিজেদের আঘাত করতে থাকেন। এদের ভয়ে বাকি শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। বাথরুমে যেতে পারছে না। মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী কমে যাচ্ছে। আবার অনেকে বলছেন জিন তাড়ানোর নাটক সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা না করিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাদল কুমার শাহা জানান, মেডিকেল সাইন্স বলে জিন বলতে কিছুই নেই। যদি কোনো শিশু অসুস্থ হয় বা তার ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়, কিংবা মানসিক যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। তাকে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার অথবা মানসিক রোগের ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। তার কোনো মানসিক বা অন্য সমস্যা আছে কি-না তা যাচাই করে চিকিৎসা দিতে হবে।