রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর আরও দুটি গুদাম ও রসদ কেন্দ্রে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি শহরে রাতভর চালানো এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটির রসদ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখান থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ওয়াইল্ডবেরিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক গভর্নরেরা।
চার দিনের মধ্যে এটি ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনায় ইউক্রেনের দ্বিতীয় হামলা। এর আগে তামবভ ও মস্কোর কাছে ইলেকট্রোস্তালে প্রতিষ্ঠানটির গুদামে হামলায় আটজন নিহত হন।
বুধবার (২২ জুলাই) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ক্রাসনোদার ও স্তাভরোপোল অঞ্চলের এমন কিছু রসদ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলো রুশ সেনাবাহিনীর জন্য ড্রোনের যন্ত্রাংশ, নেভিগেশন সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত।
ওয়াইল্ডবেরিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা কিম জানান, ক্রাসনোদার ও স্তাভরোপোল অঞ্চলের নেভিন্নোমিস্ক শহরের লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলোতে হামলার পর কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের অনুভূতি প্রকাশের ভাষা নেই। তবে এসব পরিস্থিতি তাদের মানুষের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
স্তাভরোপোলের গভর্নর ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরভ জানান, নেভিন্নোমিস্কের উপকণ্ঠে একটি গুদাম কমপ্লেক্সে হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি না করে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ক্রাসনোদারে একটি গুদাম কমপ্লেক্সে হামলায় আহত হয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ।
বিবিসি ভেরিফাই ভিডিও বিশ্লেষণ করে দুটি স্থানেই আগুন লাগার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দুটি স্থাপনাতেই ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও আকাশজুড়ে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
ক্রাসনোদার অঞ্চলে হামলার সময় আরমাভিরে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। একটি তেল ডিপোতেও হামলা হয়ে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ক্রাসনোদার শহরের দুটি আবাসিক ভবন ও দিনস্কায়া গ্রামের দুটি বাড়িতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়লেও কেউ আহত হননি।
জেলেনস্কি আরও দাবি করেছেন, রাশিয়ার একটি তেল ডিপোর পাশাপাশি আজভ ও কৃষ্ণসাগরে রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি ট্যাংকার ও চারটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে সহায়তা করতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সেরহি কুজান বলেছেন, রুশ সেনাবাহিনী ও অস্ত্র নির্মাতাদের কাছে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য, গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিকস ও নিষেধাজ্ঞাধীন পণ্য সরবরাহ ব্যাহত করাই ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলার অন্যতম কারণ।
তবে এসব হামলার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের ওপরও। ওয়াইল্ডবেরিজ মূলত স্বাধীন বিক্রেতাদের পণ্য সংরক্ষণ, সরবরাহ ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে সাম্প্রতিক হামলায় শত শত বিক্রেতার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক নারী বিক্রেতা বিবিসি রুশকে জানান, হামলায় তাঁর বিক্রির পোশাক নষ্ট হয়েছে, যা ছিল তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস। আরও হামলা হলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।








