বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তৈরি করা ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে এ চিত্র উঠে এসেছে। সূচকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে বাসযোগ্যতার দিক দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্ক ও ত্রিপোলি শহরের পরেই রয়েছে ঢাকা।

গতকাল সোমবার রাতে এ সূচক প্রকাশ করা হয়। স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো—এই পাঁচ দিক বিবেচনা করে এ সূচক প্রকাশ করা হয়। সূচকে ঢাকার মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৪২ আর শহরগুলোর তালিকায় অবস্থান ১৭১তম। গত বছরের সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান একই ছিল। তলানিতে থাকা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের স্কোর ৩২। আর ১৭২তম স্থানে থাকা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির স্কোর ৪১।

বাসযোগ্যতার ধারণা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের কোন স্থানগুলোয় সবচেয়ে ভালো কিংবা সবচেয়ে খারাপ জীবনযাত্রার পরিবেশ রয়েছে, তার মূল্যায়ন এখানে উঠে আসে। বাসযোগ্যতা মূল্যায়নে নানা দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। তালিকায় অবস্থানগত দিক থেকে কোনো শহরে একজন ব্যক্তির জীবনযাত্রায় কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে কিংবা প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানের মধ্যে সরাসরি তুলনার সুযোগ পাওয়া যায়।

সূচকটি তৈরি করা হয়েছে ১ থেকে ১০০ স্কোরের ভিত্তিতে। স্কোর ৮০-এর ওপরে হলে গ্রহণযোগ্য আর ৪০-এর নিচে হলে সেই শহরকে অসহনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৪২ স্কোর নিয়ে ঢাকা অসহনীয় শহরের চেয়ে সামান্য ভালো আছে।

এ স্কোর নির্ধারণ করা হয় প্রধান পাঁচটি দিক বিবেচনায় নিয়ে। এর মধ্যে প্রথমে স্থিতিশীলতা বিবেচনা করা হয় ছোটখাটো ও সহিংস অপরাধের ব্যাপকতা, সন্ত্রাসের ঝুঁকি, সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি ও অস্থিরতা বা সংঘাতের ঝুঁকির আলোকে। স্থিতিশীলতায় ১০০-এর মধ্যে ঢাকার স্কোর ৪৫।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও মান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও মান, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবায় ঢাকার স্কোর ৪২।

সংস্কৃতি ও পরিবেশের ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাত্রা, সামাজিক ও ধর্মীয় কড়াকড়ি, বিধিনিষেধের মাত্রা, খেলাধুলার সুযোগ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ, তাপমাত্রার ধরন, ভ্রমণকারীদের জন্য জলবায়ু কতটা অস্বস্তিকর, খাবার ও পানীয় এবং ভোগ্যপণ্য ও সেবার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকার স্কোর ৪১।

শিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষার পর্যাপ্ততা ও মান এবং সরকারি শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিক্ষায় ঢাকার স্কোর ৬৭, যা সর্বোচ্চ।

সবশেষ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা, গণপরিবহনের মান, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মান, ভালো আবাসনের প্রাপ্যতা, জ্বালানি, পানি ও টেলিযোগাযোগের মান বিবেচনায় নেওয়া হয়। অবকাঠামো খাতে ঢাকার স্কোর মাত্র ২৭, যা সর্বনিম্ন।

সূচকে তলানির দিকে থাকা অর্থাৎ বাসযোগ্যতার দিকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা অপর সাতটি শহর হলো পাকিস্তানের করাচি (১৭০), আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স (১৬৯), নাইজেরিয়ার লাগোস (১৬৮), পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোর্সবি (১৬৭), ইউক্রেনের কিয়েভ (১৬৬), জিম্বাবুয়ের হারারে (১৬৫) ও ইরানের তেহরান (১৬৪)।

সূচকে ভালো করেছে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলো। বাসযোগ্যতার দিক থেকে সবচেয়ে ভালো ১০টি শহর হলো ডেনমার্কের কোপেনহেগেন (১), অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা (২), অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন (৩) ও সিডনি (৪), সুইজারল্যান্ডের জুরিখ (৫) ও জেনেভা (৬), জাপানের ওসাকা (৭), অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড (৮), কানাডার ভ্যাঙ্কুভার (৯) ও জাপানের টোকিও (১০)।