শিশুটির পায়ে শিকল বেঁধে কাঠের টুকরোর সঙ্গে তালা লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে দিয়ে গবাদিপশুর ঘাস কাটানো হতো। মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাসায় গিয়ে মাকে বলতেও বিশ্বাস করেননি মা। শেষ পর্যন্ত খুলনার একটি মাদ্রাসায় পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হলো ১০ বছরের শিশু মিরাজুল ইসলামকে।বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মাদ্রাসার শিক্ষক আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে শিশু আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি খুলনার আড়ংঘাটা ইউনিয়নের শুলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানায় ভর্তি করা হয় মিরাজুলকে। কোরআন শিক্ষার আশায় মা রত্না খাতুন তাকে ভর্তি করেছিলেন।মাদ্রাসায় শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তাকে দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকের পালিত গরু-ছাগলের ঘাস কাটানো ও খাওয়ানোর কাজ করানো হতো। নির্যাতনের মাত্রা সইতে না পেরে শিশুটি প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে যেত।মা ও নানীকে ঘটনা বলার পরও তারা প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস করেননি। তাদের ধারণা ছিল, শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চায় না, তাই মিথ্যা বলছে।গত ৫ জুলাই শিশুটির খোঁজ নিতে গিয়ে পরিবার এই ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে কাঠের টুকরোর সঙ্গে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে।ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটির পায়ে শিকল লাগিয়ে এক মাথায় তালা ও আরেক মাথায় কাঠের টুকরোর সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। শিশুটি শিকল বাঁধা অবস্থায় কারাগারের ডান্ডাবেরি পরানো আসামিদের মতো আস্তে আস্তে হাঁটাচলা করত।শিশুটির মা রত্না খাতুন বলেন, ‘শিশুটির বাবা দিনমজুর। তাকে গেল বছর মাদ্রাসায় কোরআন শিক্ষার জন্য ভর্তি করি। এরপর মাদ্রাসায় তাকে মারপিট করা হতো। তাকে দিয়ে কাজ করানো হত। বাড়ি গিয়ে কথা বললেও প্রথমে বিশ্বাস করিনি।’তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে টেলিফোনে শিশুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও পারিনি। ফোনও কেউ রিসিভ করেনি। মাদ্রাসায় গিয়ে শিশুকে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাই।’আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিমুর রহমান জানান, ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিক্ষক আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করেছেন।মাদ্রাসায় শিশুটিকে নির্যাতন করার কারণে শিশুটি পালিয়ে বাসায় চলে যেত। আবার নানী তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেন।এর আগে ৪ জুলাই রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়ায় শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।একটার পর একটা শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরও থামছে না মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন।