রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগের মামলায় জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুপুরের পরে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল সরকার এ আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অবৈধ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মদসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
নূর মোহাম্মদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার, একটি প্রেস কার্ড, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং ভিলেওন ব্র্যান্ডের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনটিতে দুটি আইএমইআই নম্বর রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততা যাচাই, নাশকতার অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত এবং ককটেল তৈরির উৎস উদ্ঘাটনের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাত ১২টার দিকে ডিবির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নূর মোহাম্মদ জামালপুরে দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া ১৮ জুন রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘটিত মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তিনি সন্দেহভাজন আসামি। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমডিএএ/জেএইচ








