একদিন পরই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী অভিনেতা শিবা শানু। সভাপতি পদে বিজয়ী হলে চেয়ারে বসে সময় নষ্ট করতে চান না জানিয়েছেন তিনি।  

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে শিল্পীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শিবা শানু বলেন, “সভাপতি হলে চেয়ারে বসে সময় নষ্ট করব না। আপনাদের পাশের চেয়ারে বসে আপনাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনব। শুধু মিটিংয়ের সময় সভাপতি হিসেবে নির্ধারিত চেয়ারে বসব। আপনারা আমাকে সেই সুযোগটা করে দিন।”

খানিকটা ব্যাখ্যা করে শিবা শানু বলেন, “শিল্পী সমিতির নেতৃত্ব কেবল একটি পদ বা মর্যাদার বিষয় নয়; এটি শিল্পীদের অধিকার রক্ষা ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নির্বাচিত হলে শিল্পীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব।” 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠান নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিবা শানু। তার অভিযোগ, চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালকসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী যথাযথ মূল্যায়ন পান না। পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই চলচ্চিত্রের বাইরের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার মতে, এই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। 

বিদেশে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের শুটিং এবং প্রযুক্তিগত কাজে বিদেশি কলাকুশলী নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানান শিবা শানু। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থে, বাংলাদেশের প্রযোজনায় সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় বিদেশি কোরিওগ্রাফার বা ফাইট আর্টিস্ট নেওয়া হয়। আমি বলছি, আগে আমাদের শিল্পীদের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশি কাউকে নেওয়া হলেও আমাদের শিল্পীদের সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।” 

স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে জোর দিয়ে শিবা শানু বলেন, “দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের কাজের সুযোগ সংকুচিত করে বিদেশি জনবল ব্যবহারের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।” 

শিল্পী সমিতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন এই সভাপতি প্রার্থী। তিনি জানান, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্ব দেবেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শুধু সমিতির অনুদানের ওপর নির্ভর করে শিল্পীদের টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়; তাদের জন্য নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। 

বক্তব্যের শেষ দিকে ভোটারদের উদ্দেশে শিবা শানু বলেন, “আমি যদি জয়ী হই, একা জয়ী হব না। জয়ী হবেন আপনারাও। কারণ এই বিজয় হবে পুরো চলচ্চিত্র পরিবারের, শিল্পীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার।” 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে দুটো প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। শিবা শানু নির্বাচিত হলে শিল্পীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, দেশীয় কলাকুশলীদের অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এই অভিনেতা।