মৌলভীবাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সব ধরনের মুরগির দাম বাড়ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে অন্যতম ভূমিকা রাখতো ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষেরা এখন কিনছেন মুরগির পা ও মাথা।

নিম্ন আয়ের মানুষেরা জানান, প্রায় সব ধরনের দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে গেছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০-২০০ টাকা কেজি। মুরগি কেনা সম্ভব হয় না। এজন্য বাজার থেকে অনেকেই ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি করে মুরগির পা ও মাথা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালী কক ২৮০-৩০০ টাকা। এছাড়া লাল মুরগি ৭০০-৭৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মুরগির কিনতে না পারায় বাজারে নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ এসেছেন ব্রয়লার মুরগির পা ও মাথা কিনতে। তারা বাজার থেকে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে মুরগির পা ও মাথা কিনে নিচ্ছেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা মুরগি বিক্রেতা সাচ্চু মিয়া বলেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। অনেক ক্রেতা আছেন যারা মুরগি কিনে ছিলিয়ে নেয় কিন্তু পা ও মাথা নেন না। এসব পা ও মাথা আমরা জমিয়ে কেজি ধরে বিক্রি করি। ১০০-১৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অনেক সময় নিম্ন আয়ের ক্রেতারা মুরগি কিনতে না পেরে এগুলো নিয়ে যান।

সাধ্যের বাইরে ব্রয়লার মুরগি, পা-মাথা কিনছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

মৌলভীবাজার শহরের মুরগি বিক্রেতা জহির মিয়া বলেন, অনেক মানুষ আসেন মুরগির গিলা, কলিজা, পা, মাথা কেনার জন্য। আমরাও বিক্রি করি। মাঝে মধ্যে মুরগির চামড়া কেনার জন্য অনেকেই আসেন। যারা এগুলো কিনতে আসেন সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজারে মুরগির দাম বেড়েই চলছে এখানে আমাদের কিছু করার নাই। আমরা যেখান থেকে মুরগি কিনে নিয়ে আসি সেই জায়গায় দাম বেশি।

জহুরা বেগম নামে এক নারী ক্রেতা বলেন, ‘আমি বাজারে এসেছি ব্রয়লার মুরগি কিনতে। তবে বাজারে এসে দেখি প্রতি কেজি মুরগি ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পরে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ১২০ টাকা কেজি দিয়ে মুরগির পা ও মাথা কিনে নিয়েছি। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি। মুরগি কেনার সামর্থ্য নেই আমাদের। সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নুন আনতে পান্তা ফোরাচ্ছে আমাদের মতো গরিব মানুষের।’

শমশেরনগর বাজার থেকে মুরগির মাথা ও পা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন রফিক মিয়া। তিনি বলেন, গত এক মাসে একটা মুরগি কিনতে পারিনি। ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবন চলে। মাঝে মধ্যে মুরগির পা ও মাথা কিনে নিয়ে আসি বাচ্চাদের জন্য। তাও আবার ১২০ টাকা কেজি দিয়ে।

মৌলভীবাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে মুরগির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করছি। যারা অন্যায় ভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মাহিদুল ইসলাম/কেজে/জেআইএম