শাহজাদপুরে একটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে নিজ অফিস কক্ষে বসে প্রধান শিক্ষকের মদ্যপান করে মাতলামির ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শাহজাদপুরের নুকালি বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার সকালে মদ্যপান করা অবস্থায় বিদ্যালয়ে এসে ব্যাপক মাতলামি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন এসে তাকে টালমাটাল অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে বাড়ি নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তিনি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসেই মদ্যপান ও অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন। তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলে সাময়িক পরীক্ষার সময় আমি সকালে পরীক্ষার দায়িত্বে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছিলাম। প্রধান শিক্ষকের অফিসে ঠিক কী হয়েছে তা দেখিনি। তবে একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের চেয়ারে বসে মদ্যপান করেছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, আমি বাইরে থেকে মদ্যপান করে বিদ্যালয়ে একটি কাগজ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। তখন কিছুটা মাতলামি হয়েছে। পরে আমার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম ও ছোট ভাই নুরুল ইসলাম আমাকে বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আমাকে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আমি ৩ কার্যদিবসের মধ্যেই জবাব দেব। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুল ইসলাম শেখ জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।








