গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী (জরুন) এলাকার ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বেআইনি ধর্মঘট, উৎপাদন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং কারখানার পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগ এনে বুধবার (১ জুলাই) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকে ঝুলানো বন্ধের নোটিশ দেখতে পান।
কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ জুন বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা বেআইনিভাবে ধর্মঘট শুরু করে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কারখানা ত্যাগ করে। পর দিন ২৯ জুন সকাল পৌনে ৮টার দিকে তারা কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা দিলেও কাজে যোগ না দিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। কর্তৃপক্ষ বারবার কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও তারা তা উপেক্ষা করে কারখানা ছেড়ে চলে যায়।
নোটিশে আরও বলা হয়, ৩০ জুন সকালেও শ্রমিকরা হাজিরা নিশ্চিত করে কাজ না করে বসে থাকেন। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির পর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে কিছু সময় কাজ শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যে আবার উৎপাদন বন্ধ করে দেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড বেআইনি ধর্মঘটের শামিল। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা ছাড়া তাদের আর বিকল্প ছিল না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন নোটিশের মাধ্যমে কারখানা পুনরায় চালুর তারিখ জানানো হবে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের সহকর্মী সুইং অপারেটর রুবিনা বেগমের (৪৫) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এ অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন কর্মরত অবস্থায় রুবিনা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোনাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
পরদিন ২৮ জুন সকালে সহকর্মীরা রুবিনার মৃত্যুর খবর জানতে পেরে কাজ বন্ধ করে দেন। তাদের দাবি, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো রুবিনা বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিহত রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের মৃত সুমার আলী সরকারের মেয়ে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী (জরুন) এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ইসলাম গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তানভীরের সঙ্গে বুধবার (১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকে থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলার অনুরোধ করেন এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের সহকর্মী আগে থেকে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হয়ত এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। কারও অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী, রুবিনা বেগম আগে থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সহকর্মীর মৃত্যুতে শ্রমিকদের শোক ও অনুভূতির প্রতি প্রশাসনের সহমর্মিতা রয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল, ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে তারা কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।








