বাংলা চলচ্চিত্রে একজন তারকার আধিপত্য, বিদেশি শিল্পী-কলাকুশলীদের ব্যবহার এবং সহশিল্পীদের কর্মসংস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় খল অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকায় এসেছেন তিনি। আশার বার্তা দিয়ে ইলিয়াস কোবরা বলেন, “একজন নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রিকেই এগিয়ে নিতে হবে।”
একসময় দারুণ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ইলিয়াস কোবরা। মাসে ৪৫টি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। প্রায় ৭০০ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতি পাওয়া ইলিয়াস কোবরা এখন টেকনাফে কৃষিকাজ, গরুর খামার ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েই সময় কাটান। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। এবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আরমান–মুক্তি প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পর্দায় ভয় জাগানো এই তারকা।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইলিয়াস কোবরা বলেন, “শিল্পীদের খেদমত করতে চাই, তাই নির্বাচন করছি।”
চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে ইলিয়াস কোবরা বলেন, “স্টার-স্টার করতে করতে এখন আমরা নিজেরাই জিরো হয়ে গেছি। মহানায়ক রাজ্জাক ভাইকে দেখেছি, ওয়াসিম ভাইকে দেখেছি, জাভেদ ভাইকে দেখেছি, ফারুক ভাইকে দেখেছি, বকুল ভাইকে দেখেছি, ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেবকে দেখেছি। তারা একেকজন একেক দিকে কাজ করতেন। বলতেন, ‘আপনি ওই দিকে কাজ করেন, আমি এই দিকে করি, ওরা অন্য দিকে করুক’। এভাবেই সবাই মিলেমিশে ইন্ডাস্ট্রিটাকে জমিয়ে রাখতেন। এখন এত শিল্পী থাকতে একজনই বছরে দুইটা করে সিনেমা করছেন। ক্যামেরাম্যান ভারতীয়, শিল্পীও ভারতীয়। আমাদের দেশে এত ভালো শিল্পী, এত ভালো ক্যামেরাম্যান থাকতে এগুলো দেখে খুব দুঃখ লাগে।”
চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়া ও চলচ্চিত্র থেকে খ্যাতি কুড়ানোর কথা স্মরণ করে ইলিয়াস কোবরা বলেন, “অনেক দিন পর আরমান সাহেব আমাকে ডেকেছেন। তাই আমি চলে এসেছি। চলচ্চিত্রের কারণেই তো আমি ইলিয়াস কোবরা হয়েছি। আপনারা যতটুকু আমাকে চেনেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই চেনেন। আমি সাত বছর বয়স থেকে মার্শাল আর্ট করি। আমার মার্শাল আর্টের বয়স ৬৩ বছর। কিন্তু তখন তো আমাকে কেউ চিনত না। চলচ্চিত্রই আমাকে ইলিয়াস কোবরা বানিয়েছে। এখন তারা মনে করে দামি আর্টিস্ট, স্টার—এসব। রাজ্জাক ভাইদের আমলে এসব শুনিনি। স্টার না বলে দামি আর্টিস্ট বললেই হয়।”
শাকিব খানের দায়িত্ব নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ইলিয়াস কোবরা বলেন, “আপনি স্টার হইলে আপনারও দায়িত্ব আছে। আপনার ঘরে পাঁচটা ছেলে, একটা খুব ভালো আর চারটা না খেয়ে মরে, রাস্তাঘাটে টমটম চালায়—আপনি কি করবেন? ওই চারটা ভাইকে চালায়ে নিতে হবে, তখন আপনার মূল্য হবে। মানুষ আপনাকে তখনই স্মরণে রাখবে, যখন আপনি কিছু করে যাবেন। যারা ইন্ডাস্ট্রিকে হিট দিচ্ছে, তাদের এটা চিন্তা করা উচিত। আপনি হাজার কোটি টাকা কামাবেন, আর পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে কারো কোনো কাজ থাকবে না—আপনার কলিগরা টমটম চালাচ্ছে। শিল্পীদের আজ অবস্থান কোথায়? আমার মনে হয় কোনো অবস্থান নাই! এ জন্য বারবার মনে হয়, যেটাই হোক, সরকারকে বিষয়টা ধরতে হবে।”
আশির দশকে ‘মারকশা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইলিয়াস কোবরার। নায়ক রুবেলের সহযোগিতা ও সোহেল রানার হাত ধরে তার যাত্রা শুরু। সিনেমাটিতে ‘কোবরা’ চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘ইলিয়াস কোবরা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মার্শাল আর্টভিত্তিক অসংখ্য সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।







