চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। তাই এজন্য আগামী ৩০ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন করে ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।

মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে গত ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।

আরও পড়ুন

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা / মোজাফফরকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ, জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

পরবর্তীতে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ মারা যান। প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করে মামলা হিসেবে তদন্তের আবেদন করেন।

সিআইডি ১৯৯৭ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মত দিলেও বাদীপক্ষ সেই প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিভিশন আবেদন করে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর সময় তার শরীরে আঘাতের বিভিন্ন চিহ্ন ছিল এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে, তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

এমডিএএ/একিউএফ