নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ: পার্ট ১’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, অভিনয় ও নির্মাণশৈলী প্রশংসা কুড়াচ্ছে। পাশাপাশি এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও দর্শকের মন ছুঁয়েছে। অস্কারজয়ী দুই সুরকার এ আর রহমান ও হ্যান্স জিমার যৌথভাবে তৈরি করেছেন ব্যাকগ্রাউন্ডটি।

আরও পড়ুন

কান মাতানো নির্মাতার নতুন চমক, কোথায় দেখা যাবে সাইমন-তুষিদের ‘অ্যানি’

এই সুরটি ট্রেলারের ‘প্রাণ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন অনেক সমালোচকও। অনেকে ছবির পোশাক, ভিএফএক্স ও শিল্পী বাছাই নিয়ে ট্রল ও সমালোচনায় মেতেছেন। তবে সবাই একমত হয়েছেন এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে। সেটি সবারই পছন্দ হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চার মিনিট ৯ সেকেন্ডের ট্রেলারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে আরও গভীর, আবেগঘন ও মহাকাব্যিক করে তুলেছে রহমান-জিমারের সংগীত। গল্প বলার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই সুর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেলারের শুরুতেই ইয়াশ অভিনীত রাবণের আবির্ভাবের সময় যে গম্ভীর ও শক্তিশালী সংগীত বাজে, তা তার ক্ষমতা, ভয়ংকর উপস্থিতি এবং তিন লোকের শাসক হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।

অন্যদিকে রণবীর কাপুর অভিনীত রামের পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহে হাজির হয়। শান্ত, সংযত ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সঙ্গে তবলা ও সূক্ষ্ম সুরের ব্যবহার রামের চরিত্রকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে বনবাসের দৃশ্য। রাম, সীতা ও লক্ষ্মণের অযোধ্যা ত্যাগের আবেগঘন মুহূর্তে কোরাল সংগীত ও অর্কেস্ট্রাল সুর দর্শকদের চরিত্রগুলোর আত্মত্যাগ অনুভব করতে সাহায্য করে।

ট্রেলারের শেষাংশে ‘ধরতি হ্যায় আম্বর’ গানের সঙ্গে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের ব্যবহারও আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অংশটি ট্রেলারকে শুধু মহাকাব্যিক নয়, আধ্যাত্মিক উচ্চতাও দিয়েছে।

আরও পড়ুন

‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি’, কার অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রভা?

ইন্ডিয়া টুডে আরও বলেছে, হ্যান্স জিমারের বিশাল অর্কেস্ট্রাল আয়োজন এবং এ আর রহমানের ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও আধ্যাত্মিক সুরের মিশেলে ‘রামায়ণ’ এমন একটি সংগীতভাষা পেয়েছে, যা একই সঙ্গে বৈশ্বিক এবং ভারতীয় সংস্কৃতির আবহকে ধারণ করে।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য, সিনেমাটি মুক্তির আগে এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব না হলেও ট্রেলার অন্তত এটুকু প্রমাণ করেছে- রহমান ও জিমার ‘রামায়ণ’-এর জন্য এমন একটি সংগীতভাষা তৈরি করেছেন, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন ঘটিয়ে দর্শকদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে।

 

এলআইএ