চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের বিশাল জমি ও স্থাপনা এবার দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে প্রায় ৫৫ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর ও এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই জমিতে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা বা বিওএফের সম্প্রসারণ করা হবে।  

এর ফলে চট্টগ্রামে দেশের দ্বিতীয় সমরাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে ওঠার পথ তৈরি হলো। নতুন স্থাপনায় আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুপুরে ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুর রহমান মিয়া জানান, জলিল টেক্সটাইল মিলস বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতীকী মূল্যে এর ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি ও স্থাপনা বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা খাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। গাজীপুরে বিদ্যমান বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রয়োজন থেকে চট্টগ্রামের এই জায়গাটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। 

২০২৪ সালে উদ্যোগ শুরু জলিল টেক্সটাইলকে বিওএফ সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৪ সালে। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনা সদরের কিউএমজি শাখা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য জলিল টেক্সটাইল মিলস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে সেনাপ্রধান বিশেষজ্ঞ দলসহ মিলটি পরিদর্শন করেন।

পরে বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যায়। ২০২৬ সালের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জলিল টেক্সটাইলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। 

জলিল টেক্সটাইলের দীর্ঘ ইতিহাস জলিল টেক্সটাইল মিলস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের অধীনে নেওয়া হয়। মিলটিতে ১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের স্পিনিং ইউনিট ছিল। পরে উৎপাদন বাড়াতে উইভিং ও ডাইং বিভাগ চালু করা হয়।

মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি একসময় তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করে। তবে পরবর্তী সময়ে লোকসান, অব্যবস্থাপনা ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মিলটি সংকটে পড়ে। ২০০৪ সালে এর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৭ সালে সরকার মিলটি পুনঃগ্রহণ করে এবং বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করে।