প্রথমার্ধে যে সতর্কবার্তা মিলেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে সেটিই বাস্তবে পরিণত হলো। বিরতিতে এক গোলে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা ক্রমেই নিজেদের অর্ধে সরে যেতে থাকে। সুইজারল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ সামলে শেষ পর্যন্ত আর পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ের গোলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা ব্যবধান বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল। ৫০ মিনিটে লিওনেল মেসির চমৎকার থ্রু পাসে নাহুয়েল মোলিনা সুযোগ পেলেও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দুই মিনিট পর হুলিয়ান আলভারেসের দূরপাল্লার চেষ্টা সুইস রক্ষণে আটকে যায়।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড। ডান-বাম দুই প্রান্ত থেকেই আক্রমণের ঢেউ তুলতে থাকে তারা। ৫৫ মিনিটে এনদোয়ের শট আর্জেন্টিনার রক্ষণে আটকে যায়। ৬০ মিনিটে রিকার্দো রদ্রিগেসের ক্রস থেকে ব্রিল এমবোলোর হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
কিন্তু চাপ কমেনি। ৬৩ মিনিটে আরেকটি কর্নার আদায় করে সুইজারল্যান্ড। দুই মিনিট পর আবারও রদ্রিগেসের ক্রস থেকে এনদোয়ের হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন মার্তিনেস। এক মিনিট পর দূরপাল্লার শটে গ্রানিত জাকাকেও হতাশ করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।
তবে তৃতীয়বার আর রক্ষা হয়নি। ৬৭ মিনিটে রিকার্দো রদ্রিগেসের বাড়ানো পাস ধরে বক্সে ঢুকে কঠিন কোণ থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন দান এনদোয়ে। একের পর এক আক্রমণের পর প্রাপ্য গোলটিই পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। ম্যাচে সমতা ফেরানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বড় ধাক্কা খায় তারা। ভিএআরের পর ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। ফলে ৭২ মিনিট থেকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হচ্ছে মুরাত ইয়াকিনের দলকে।
প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ফাউল ধরে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও রিপ্লে দেখে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন রেফারি। রিভিউতে দেখা যায়, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। বরং ব্রিল এমবোলো ফাউল আদায়ের উদ্দেশ্যে অভিনয় (সিমুলেশন) করেছেন। এরপর পারেদেসের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে মাক আলিস্তারের হেডে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছিল। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে লড়াইকে নতুন করে জমিয়ে তুলেছে সুইজারল্যান্ড।








