জ্বর কমে গেলেও সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের জন্য চিকিৎসা প্রটোকল চালুর কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই মাস ধরে সরকার সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, লার্ভা ধ্বংস করার জন্য একটি বিশেষ মেডিক্যাল ট্যাবলেট সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট জায়গায় জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা বা টায়ারে এই ট্যাবলেট ব্যবহারে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্লাজমা (রক্তরস) লিকেজের কারণে অনেক সময় রোগী মারা যায়। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি ডেইলি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল তৈরি করে তা সব চিকিৎসকের মুঠোফোনে ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মেডিক্যালের কারিকুলাম আরও আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উন্নত বিশ্বের চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে প্যাথোলজি বিভাগ, যা চিকিৎসার মূল ভিত্তি, সেখানে তিন বছর আগে একটি সরকারি মাইক্রোস্কোপ নষ্ট হওয়ার পর আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, হস্তান্তরিত লেটেস্ট মডেলের এই আধুনিক মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এখন থেকে এক সিটিংয়েই নিখুঁতভাবে ক্যানসার ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাসেবায় বড় পরিবর্তন আনবে।

এ সময় স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।