দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক (মেরিন ফিন ফিশ) মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে দুই দিনব্যাপী সার্ক আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শুরু হয়েছে। আজ বুধবার শুরু হওয়া এই সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
সভার আয়োজন করেছে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’।
সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্টেট মিনিস্টার মোহাম্মদ মুথথালিব। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ: বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি ও সহযোগিতার সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্যবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব। তিনি বলেন, অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ, প্রতিবেদনবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক আবাসস্থলের অবক্ষয় দক্ষিণ এশিয়ার মৎস্যসম্পদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ একান্ত জরুরি।
নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, যৌথ গবেষণা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন এবং মৎস্য খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সার্ক দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্ক কৃষি কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম গঠন করে আঞ্চলিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের উপকূলীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’এর প্রধান নির্বাহী মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই এ সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী এবং ঢাকায় অবস্থিত সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (মৎস্য) ড. মো. শরীফুল ইসলাম সভার উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সার্ক সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই পরামর্শ সভার মূল লক্ষ্য।








